May 20, 2024, 1:04 am
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

ফেসবুকিয় বিচার, নৈতকতা, প্রশ্ন ও উত্তরনের উপায়।

মারুফ আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : Monday, June 14, 2021,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

গতকাল থেকে পরীমনি ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের খবরছি, মতামত এবং বিচার সংশ্লিষ্ট অনেক ধরনের মতবাদও পাচ্ছি। এক্ষেত্রে যদি আমাকে নিজ অবস্থান প্রকাশ করতে বলা হয় তাহলে আমি সম্পুর্ন সমস্যাটাকে দুটো ভাগে ভাগ করতে চাইবো। তার প্রথমটা হলো এই, একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি প্রত্যাশা রাখি সর্বসাধারন যে কাজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমমে করেছেন তা নৃ-গোষ্ঠিগত বিচারে সঠিক করেছেন মানে হলো অন্যায়কে অন্ধতার বিচারে ন্যায় করার অগ্রহনযোগ্য প্রচেষ্টার একটা সফল মঞ্চায়ন তারা করেছেন। এবং এই পর্যায়ের আলোচনায় প্রশাসনের একজন শিক্ষার্থী হয়ে আমি এটা মনে করি এবং বিশ্বাস করি যে একটা অন্যায়কে ব্যাক্তিবিশেষে বৈধতার নৈতিক এবং অনৈতিক কোন অধিকারই আমাদের নেই এবং এ রকম ধারনা পোষণ করাটাও অন্যায়। কারণ, মানুষ মাত্রই অধিকার রাষ্টপ্রদত্ত এবং সংরক্ষিত। যেহেতু এই ব্যাপারে রাষ্ট্র স্বয়ং সংরক্ষকের (মাধ্যম বিচারাদালত) ভূমিকা পালন করছেন সেহেতু নিজের বসার ঘরের আলোচনা ভেবে যদি কেউ এর অবমুল্যায়ন করেন তবে তা হবে নিতান্তই অবমাননাকর এবং নৈতিকতার চরম অসহাবস্থান। হ্যা, আপনি যেকোন ঘটনা নিয়ে মতামত দেয়ার অধিকার রাখেন এবং আশা পোষন করেন এবং তা যুক্তিযুক্ত যা অবশ্যই নিজের সহাবস্থান বোঝার জন্য কিন্তু প্রকাশ কিংবা বিচার করার লক্ষ্যে নয় অবশ্যই যদি সেই বিষয়টায় ব্যাক্তি কেন্দ্রিকতা থাকে। কারন বিচারাদালত বা প্রশাসনিক কাঠামো আপনার মর্জি বা ইচ্ছা অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা করে না। আমার কথা বুঝতে বা কারোর মানতে কষ্ট হলে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মতবাদ কিংবা চুক্তিগুলো একবার দেখে নিতে পারেন। আশাকরি আপনি আপনার প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর খুঁজে পাবেন।

দ্বিতীয়ত, এবার আশা যাক ব্যাক্তি পরীমনি বা তার পেশাগত কার্যক্রমে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একজন ব্যাক্তি তার পোশাক, পেশা, মতাদর্শবলে কখনো অন্য কারোর দ্বারা নির্গীহিত হবেন এমনটা ভাবা শুধু নৈতিক স্খলন না বরঞ্চ অপরাধের শামিল। আপনি কখনো একজনের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে কোনভাবে কোন রকম কাজে বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা কিংবা অধিকার কোনটিই রাখেন না এবং যা সংবিধান আপনাকে দেয়নি এবং তার বরখেলাপ মাত্রই রাষ্ট্রদ্রোহীতা এবং সুস্পস্ট আইন অবমাননার সামিল। আপনি কি বলছেন বা ভাবছেন তার পেছনের ভাবনাগুলো যৌক্তিক এবং নীতিসম্পন্ন কিনা তা ভাবাটা আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি খুবই জরুরী। আমরা মানুষ হিসেবে জন্ম নিচ্ছি কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছি কি?
আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ব্যাক্তি পরীমনি বলে কি আমি এসব লিখছি বা ব্যাক্তিবিশেষে কি প্রতিবাদের ভাষা পরিবর্তিত হয়? উত্তর হলো না! এখানে নির্গিহীতা যিনিই হন না কেন তিনি মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়েই আইনের সমান আশ্রয় লাভ এবং সমান সামাজিক সহানুভুতি লাভ করবেন। এবং যতদিন না পর্যন্ত সামাজিক বিভাজন, ভিক্টিম ব্লেমিং, ভিক্টিম বুলিং, সংস্কৃতি হিসেবে আমাদের বিবেচ্য হবে ততদিন পর্যন্ত হয়ত আমরা মানুষ হিসেবে জীবন অতিবাহিত করবো ঠিকই কিন্তু মানুষ হয়ে বেঁচে মরাটা অনেকটা অসম্ভবপর হয়ে যাবে। সর্বোপরি বলবো পৃথিবী ও মানুষ, মানুষের জন্য হোক এবং ব্যাক্তি বিশেষে গুরুদন্ড ন্যায় হিসেবে সাক্ষ্য দেয়া এবং এই নীর্লিপ্ত মনোভাবের অবসান ঘটুক।

 

লেখকঃ মারুফ আহমেদ,শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023