May 21, 2024, 1:59 pm
শিরোনাম
জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল

মাসিক স্বাস্থ্য দিবস এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট

মোঃ মমিন ইউ আহম্মেদ
  • প্রকাশের সময় : Thursday, May 27, 2021,
  • 5 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রতিটি নারীর জীবনে মাসিক, পিড়িয়ড বা ঋতুস্রাব হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনচক্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও এটি নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো স্বাভাবিক নয়। এই কথা অনস্বীকার্য যে, নিরাপদ এবং ঝামেলাবিহীন মাসিক স্বাস্থ্য নারীর মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার।
সরকারী ও বেসকারী সংস্থার একটি গবেষণায় দেখা গেছে,  গ্রামে ৯ শতাংশ ও শহরে ২১ শতাংশ বিদ্যালয়গামী ছাত্রী স্বাস্থ্যসম্মত প্যাড ব্যবহার করে। আর সামগ্রিক ভাবে ৮৬ শতাংশ কিশোরী ব্যবহার করে পুরানো অপরিচ্ছন্ন কাপড়। গবেষণায় দেখা যায়, নারীর মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এখনও সমাজে সেভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয় নি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের  সাথে খোলামেলা আলোচনার মানসিকতার এখনো আমাদের সমাজে তৈরী হয়নি।
এক্ষেত্রে পরিবার বিশেষ করে মায়েদের দায়িত্ব তার কিশোরী মেয়েকে এ সম্পর্কে জানানো একই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এ ব্যাপারে সচেতন ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করে সে জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
অস্বাস্থ্যকর মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর অসহজলভ্যতা এবং দুর্বল স্যানিটেশন অবকাঠামো, দৃষ্টিভঙ্গি, স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিকভাবে সামাজিক অবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তারই প্রেক্ষিতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং মাসিকের সাথে সম্পর্কৃত বিদ্যমান এই নেতিবাচক সামাজিক বিষয়গুলো পরিবর্তন করাতে বিশ্বব্যাপী ২৮ মে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়। ২০১৩ সালে জার্মান ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াশ ইউনাইটেড’ কর্তৃক এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রথম উদযাপনের পর থেকে সারা বিশ্বে  এই দিবসটি পালনের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০২১ এ বিশ্বে মাসিক স্বাস্থ্য দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘We need to step up action and investment in menstrual health and hygiene now’
আমরা এখন এমন একটি যুগে বসবাস করছি যেখানে  তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে এক ক্লিকেই সকল তথ্য সামনে এসে হাজির হয়। কিন্তু এই প্রযুক্তির যুগেও বসবাস করেও স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন প্রকার ভুল তথ্য অনুসরণ করি এবং বদ্ধমুল ধারণাকে লালন করি। বিশেষ করে মাসিকের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বাভাবিক বিষয়ে আমাদের জ্ঞান অনেক ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। মাসিক সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের ভুল ধারণা, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে না দেওয়া (মেয়েদের জন্য মাসিকের কাপড় পরিবর্তন করা বা কাপড় ধোয়ার জন্য গোপনীয় এবং নিরাপদ স্থান) এবং উদাসীনতা কিশোরী মেয়েদের মাসিক চলাকালীন সময়ে মাসিক ব্যাবস্থাপনা করার বিষয়টিকে অনেক ক্ষেত্রে কঠিন করে দেয়।
বাংলাদেশের সমাজে মাসিকের মত একটি স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক বিষয় নিয়েও সংকোচ এবং লজ্জার বিরুপ প্রভাব রয়েছে।আশা করা যায়, পরিবার তথা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহজ,  সক্রিয় এবং কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে পরিবর্তন হবে দীর্ঘদিন ধরে চলা আসা এই বিষয়টির। আসুন প্রাকৃতিক এই জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিব্রত বা লজ্জাবোধ না করে সচেতন হই, সঠিক তথ্যগুলো জানি এবং সুস্থ্য থাকি।
লেখক
শিক্ষার্থী আইন বিভাগ,  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023