May 20, 2024, 12:57 am
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ কি?

খালেকুজ্জামান জুন
  • প্রকাশের সময় : Thursday, May 20, 2021,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শপথ গ্রহনের পর পর ঘোষনা দিলেন তারা আফগানিস্তানকে নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চায় না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পথেই হাটতে আগ্রহী নতুন প্রেসিডেন্ট৷ ২০০১ সালে শুরু হওয়া দীর্ঘ এ যুদ্ধে আমেরিকার বিন্দু মাত্র লাভ হয় নি৷ উল্টো ধারণা করা হয় আমেরিকার খরচ হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ। নিহত হয়েছে ৩৫০০ আমেরিকান সৈন্য এবং ২ লক্ষ নিরীহ মানুষ। যেই আমেরিকাই তালেবানদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছিল তারা আবার তালেবানদের সাথেই এক টেবিলে বৈঠক করে শান্তিচুক্তিতে একমত হলো। এবার দেখা যাক আমেরিকা চলে গেলে তাদের কোলে থাকা আশরাফ গনির আমেরিকাপন্থী সরকার এবং তালেবানদের ভবিষ্যত কী? আফগানিস্তান কি পারবে শান্তির পথে হাটতে? নাকি প্রতিবেশি ভারত-পাকিস্তানের ছায়া যুদ্ধের ময়দান তৈরি হবে দেশটিতে? হতে পারে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ৷ কী হবে আফগানিস্তানের পরিনতি?

সময়টা ২০০১ সাল৷ সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে আমেরিকার টুইন টাওয়ারে ওসামা বিন লাদেনের নির্দেশে আত্নঘাতী বিমান হামলা করে আল- কায়দা৷ সেই হামলায় বহু মার্কিনী নিহত হয়৷ এই হামলার জের ধতে তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের নির্দেশে আমেরিকা ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তান ও ইরাক আক্রমণ করে৷ একসময়ের আমেরিকার হাতে গড়া তালেবান তখন আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায়৷ ২০০১ সালের ৭ই অক্টোবর কাবুল, কান্দাহার এই প্রধান দুটি শহরে আক্রমন করে আমেরিকা এবং ন্যাটো জোট। আমেরিকার ভারী অস্ত্রের মুখে তালেবান সরকার বেশি দিন টিকতে পারে না৷ তালেবানরা পিছু হটে৷ আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে আমেরিকার মদদপুষ্ট সরকার৷ কিন্তু তালেবানরা সাময়িক পিছু হটলেও তারা দমে যায়নি।তারা তাদের মতো যুদ্ধ চালিয়ে যায়। তালেবানরা পাহাড়-জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে তারা তাদের বিদ্রোহ চালিয়ে যায়৷ তারা একের পর এক আত্নঘাতী হামলা, রোডসাইড বম্বিং, চোরাগোপ্তা হামলা এবং শহরাঞ্চলে ভয়াবহ হামলা অব্যাহত রাখে৷ আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীকে দীর্ঘ দিন ধরে সাহায্য করে আসছে আমেরিকা৷ তারা অস্ত্র এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাহায্য করে আসছে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীকে। তালেবানরা আমেরিকার সৈন্য এবং আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীকে মোকাবিলা করে আসছে দীর্ঘ ২০ বছর৷ বিপুল অস্ত্র, বোমা দিয়েও তারা তালেবানদের সাময়িক পিছু হটাতে পেরেছিলো ঠিকই কিন্তু তাদের গুরিয়ে দিতে পারে নি৷ উলটো আফগানিস্তানের প্রায় অধিকাংশ এলাকা তালেবানদের নিয়ন্ত্রনে৷ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন আফগানিস্তানে এখন যে পরিস্থিতিই হোক না কেন আমেরিকার সেনাদের নিজ দেশে ফিরাবেই তার সরকার৷ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পহেলা মের মধ্যে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিলেও অনেকে মনে করতেন বাইডেন ট্রাম্পের নীতি গ্রহণ করবেন না৷ কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাইডেন একই পথে হাটলেন।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারে আমেরিকা ও তালেবানদের চুক্তি হওয়ার পর অদ্ভুতভাবে আফগানিস্তানে হামলা বেড়ে যায়। তালেবানরা এই হামলাগুলোর দায়স্বীকার করেনি। তাহলে কারা হামলা করছে? আফগানিস্তানের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের৷ আফগানিস্তানের আমেরিকাপন্থী আশরাফ গনির সরকারের সাথে রয়েছে ভারতের ব্যাপক সম্পর্ক৷ ভারত আফগানিস্তানে অনেক বিনিয়োগ করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে৷ আফগানিস্তানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের একমাত্র দাবিদার ভারত৷ অন্যদিকে তালেবানঘেষা পাকিস্তান এদিকে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তালেবানরা যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে ভারতের সাথে আফগানিস্তানের সম্পর্ক ছিন্ন করার সম্ভাবনা ৯০ ভাগ৷ আমেরিকা ও ন্যাটো জোট যদি আফগানিস্তান ছাড়ে তাহলে এটি পাকিস্তানের জন্য বড় সুখবর বয়ে আনবে এটি ভারত জানে৷ তাই অনেক বিশ্লেষক মনে করেন আফগানিস্তানের গত কয়েকদিনের হামলার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে৷ তবে এই কথার সাপেক্ষে কোন প্রমাণ নেই৷ বর্তমানে আফগানিস্তানের ৬০-৬৫ ভাগ এলাকা তালেবানদের দখলে৷ আমেরিকা চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা যে তালেবানরা নিতে চাবে এটি সবাই জানে৷ তালেবানদের মোকাবিলা করার মতো শক্তি ও সামর্থ্য আফগানিস্তান সরকার আশরাফ গনির নেই৷
যদি আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে যাওয়ার আগে একটি সর্বজনস্বীকৃত সরকার গঠন করতে পারে তাহলে বলা যায় আমেরিকার প্রস্থান আফগানিস্তানের জন্য স্বার্থক হবে। যদি আমেরিকা আফগানিস্তানে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় এবং তারা চলে যায় তাহলে আশরাফ গনি এবং তার সরকারকে তালেবানদের দয়ার উপরই ছেড়ে যেতে হবে। তালেবানরা অবশ্যই তাদের অতীত ইতিহাসের প্রতিশোধ নিতে চাইবে৷ আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে হলে আমেরিকার দরকার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ৷ উভয়পক্ষের মধ্যে দরকার একটি কার্যকর শান্তিচুক্তি । অনেকে বিশেষজ্ঞ মনে করেন আমেরিকার প্রস্থান মানে আফগানিস্তানকে আরেকটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া৷ আফগানিস্তানে এখনও বেশ ভাল অবস্থানে আছে ইসলামিক স্টেট(আই এস)৷ আমেরিকার আফগান ছাড়া মানে আইএসের পুনরুত্থান বলে অনেকে মনে করেন৷ তাই আফগান সরকার এবং তালেবান উভয় পক্ষ নিয়ে একটি স্বর্বজনস্বীকৃত সরকার গঠন করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া আমেরিকার প্রস্থান মানে আফগানিস্তানে পাকিস্তান ও ভারতের ছায়া যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়া। আফগানিস্তানের হাতে ক্ষমতা গ্রহন মানে ভারতের বিনিয়োগগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া। প্রতিবেশী চীনও যে এই ছায়া যুদ্ধে অংশ নিতে মরিয়া তা নিশ্চিত৷ সম্প্রতি চীন আফগানিস্তানে বিনিয়োগে মরিয়া৷ হতে পারে বড় রকমের রক্তক্ষয়ী সংঘাত৷ তালেবানও আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। একমাত্র আমেরিকান সৈন্য চলে যাওয়ার শর্তে তারা শান্তি আলোচনায় বসেছিলো।আফগানিস্তানের নিরীহ শান্তিকামী জনগন সবসময় শান্তি চেয়েছিলো৷ আমেরিকা ও ন্যাটো জোট তাদের দেশে ঢুকার আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) আফগানিস্তানে ছিলো৷ তখন তালেবানরাই ১৯৯২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নকে হটিয়ে তাদের দেশ বৈদেশিক সেনা মুক্ত করে৷ তার কিছু দিন পরেই নাইন ইলিভেনের হামলার জের ধরে আমেরিকা ও তার ন্যাটো জোট আসে আফগানিস্তানে। মুহুর্তেই দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে সংঘাত৷ আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের যুদ্ধ মুক্ত একটি দেশের স্বাদ অনেক দিনের৷ তারা বহু প্রতিক্ষায় চেয়ে আছে আমেরিকার ও তালেবানদের ছাড় দেওয়ার মানসিকতার উপরে৷
লেখকঃ শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
চবি/মাসুম

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023