May 19, 2024, 10:47 pm
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

ভারতীয় ভ্যারিয়্যান্টের অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশে ভাইরাসের স্বজনপ্রীতি

মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাট
  • প্রকাশের সময় : Tuesday, May 18, 2021,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
(১) মধ্য এপ্রিলে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হওয়ার দু-একদিন আগে, ঢাকার মিরপুরে যেখানটায় থাকি, সেখানকার একটা ভালো সেলুনে গেলাম চুল কাটাতে। ভালো সেলুনে গেলাম এই ভেবে যে, ওরা হয়তো মিনিমাম হাইজিন মেনে চলবে। সেলুনের মহাজন দোকানে নাই। ২২-২৩ বছর বয়সী সেলুনের কর্মচারী এক ছেলে চেয়ার দেখিয়ে বসতে বললো। গায়ে কাপড় জড়াতে জড়াতে বললো, ভাই, মাস্ক খুলতে হবে।
ছেলেটার নিজের মুখে মাস্ক নাই। আমাকেও মাস্ক খুলতে বলছে।খানিকটা রেগে গিয়ে বললাম, শেইভ করবো না; তবে মাস্ক খুলতে হবে কেন? চুল কাটাবো।
কর্মচারী ছেলেটি বললো, ভাই, চিপ কাটতে সমস্যা হয়। কান ঝাড়তে মুশকিল হয়। আমি বললাম, চিপ-কান না হয় একটু সময় নিয়েই ঝাড়লে! তোমার মুখে মাস্ক নাই। আমাকেও মাস্ক খুলতে বলছো। মাস্ক খোলা যাবে না। ধীরে ধীরে কাটো। ছেলেটি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাটতে শুরু করলো। আমি ওর নাম-পরিচয় জেনে একটু আলাপ শুরু করলাম। জিজ্ঞেস করলাম, মাস্ক পরোনি কেন? সরাসরি জবাব না দিয়ে ছেলেটি গভীর আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো, “ভাই, গরিব মানুষের করোনা হয় না।”
(২)
এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং ভারতের কোভিড সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কাছাকাছি ছিলো। সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও ভারতে নেমে এসেছে ব্যাপক বিপর্যয়। ভারতের বড়ো বড়ো শহরগুলোতে আক্রান্ত রোগীরা একটু প্রশ্বাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যখাতে পরম নির্ভরশীলতার জায়গা ভারত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আইসিইউ সাপোর্ট পাচ্ছে না রোগীরা। প্রতিদিন প্রায় চার লাখ সংক্রমণ ও চার হাজার মৃত্যুর রেকর্ড নিয়ে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করছে ভারত।
শঙ্কার খবর হলো, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৬ জনের শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়্যান্ট (বি.১.১৬৭) শনাক্ত হয়েছে, যা অতি সংক্রামক বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।ভারতের মতো স্বাস্থ্য অবকাঠামো যেহেতু উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হচ্ছে অনুরূপ পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর পক্ষে তা কতটুকু সামাল দেয়া যাবে, তা ভাবলে শিহরণ জাগে।
(৩)
দেড় কোটি ডোজের ভ্যাক্সিনের জন্য টাকা পরিশোধ করা হলেও এখন আর টিকা সরবরাহ করতে পারবে না ভারত। রাশিয়া ও চীনের সাথে টিকা সরবরাহ চুক্তি শুরু হলেও এ নিয়ে চলছে নানা জটিলতা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ শুরু হলে ৬ মে পর্যন্ত  কমপক্ষে এক ডোজ ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছে এমন জনসংখ্যা প্রায় ৫৮ লাখ ও ডোজ সম্পূর্ণ করেছে এমন জনসংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ এবং প্রয়োগ হার যথাক্রমে মোট জনসংখ্যার ৩.৬℅ ও ২% মাত্র।
এদিকে, দ্রুতই শেষ হয়ে আসছে দেশের রিজার্ভ ভ্যাক্সিন। প্রথম ডোজ টিকা নেয়া অনেকেই অনিশ্চয়তায় আছেন দ্বিতীয় ডোজ পাবেন কিনা। অন্যদিকে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে মে-জুন মাসে দেশে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের চূড়ান্ত প্রকাশ দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভ্যাক্সিনের অপ্রতুলতা, ভ্যাক্সিন প্রয়োগে ধীরগতি, ভ্যাক্সিন গ্রহণে সাধারণ মানুষের ভয় ও অনীহা এবং ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতার হার সামগ্রিকভাবে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদী কৌশল বিবেচনায় ভ্যাক্সিনেশন সফল ও কার্যকর পদ্ধতি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না।
এটি অনেকটা স্পষ্ট যে,অচিরেই করোনা ভাইরাস বিলীন হচ্ছে না। এই ভাইরাসের আরো ওয়েভ সামনে আসবে।আবার ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতাও ভাইরাসের মিউটেশন ও অন্যান্য  কারণে ব্যাহত হচ্ছে। তাই ভ্যাক্সিন প্রয়োগ হলেও সচেতনতা ও সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
(৪)
এরূপ পরিস্থিতিতে ভারতের মতো কোনো বিপর্যয় বাংলাদেশে দেখা দেয়ার আগেই সর্বোচ্চ সর্তকতা গ্রহণ করতে হবে। সেজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সচেতনতা।সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে সচেতন হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু ভয়ের জায়গা হলো, ব্যয়বহুল না হলেও দেশে সচেতনতার খুব অভাব। এখানে ধনী-গরীব,শিক্ষিত-অশিক্ষিত, তরুণ-বৃদ্ধ সবার মাঝেই কম-বেশি অসচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। তবে, করোনা ভাইরাস প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক ঝুঁকিতে আছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। প্রশাসনের চাপ না থাকলে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিও মানতে চাচ্ছে না। মাস্ক পরার প্রয়োজনও মনে করছে না তারা। এই জনগোষ্ঠীর বড়ো একটি অংশ মনে করেন, করোনা শুধু ধনীক শ্রেণিকেই সংক্রমিত করে।প্রচার মাধ্যম অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশজুড়ে পরিচিত ব্যক্তিদের সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর প্রচার করে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে, করোনা ভাইরাসে শুধু বিত্তশালী মানুষকেই আক্রান্ত করে। রাস্তার কোনো এক রিকশাওয়ালা, পাড়ার কোনো এক চায়ের দোকানদার সংক্রমিত হলে কিংবা মারা গেলে সেগুলো মিডিয়াতে আসবে না; কিঞ্চিত আসলেও সেখবর দর্শক, পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না।কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এই চিন্তাধারাই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। কারণ, ধনীর টাকা আছে। তার জন্য হাসপাতাল আছে। অক্সিজেন আছে। কর্তৃপক্ষের সুনজর ও অগ্রাধিকার আছে। কিন্তু দরিদ্র মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতালে জায়গা পাবে না। মাঠে-ঘাটে-রাস্তায় কাতরাতে হবে।কারণ, দরিদ্রের মৃত্যুতে মানুষের মরণ হয় না। দরিদ্রের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের বুকে শোকের মাতম বয়ে যায় না। তাই নিজ স্বার্থেই দরিদ্র মানুষকে সচেতনতার পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মনে রাখতে হবে, ভাইরাস আমির-ফকির, আশরাফ-আতরাফ, দোস্ত-দুষমন চিনে না। এই ভাইরাস চিনে শুধু বাহক। ডায়াবেটিস,ডায়রিয়া,যক্ষা কিংবা ক্যান্সারের মতো ভয়ংকর রোগ-ব্যাধি তাদের আক্রমণ করতে পারলে, কোভিড-১৯ তাদের দয়া দেখাবে না।কারণ,অন্যান্য রোগ-ব্যাধির মতো ভাইরাসেরও ধনী-নির্ধন বিবেচনা করার মতো বোধশক্তি নাই।

 

লেখকঃ শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

সম্রাট/মাসুম

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023