May 21, 2024, 2:10 pm
শিরোনাম
জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল

মাশরাফি বাংলার ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

তাইয়েবা তাকবীর অর্নিলা
  • প্রকাশের সময় : Sunday, May 16, 2021,
  • 2 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

অবিশ্বাস্য শৃঙ্খলা, রক্ত জল করা খাটুনি দিয়ে বাংলার ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তীর নাম মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। তার দৃঢ় নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য উন্নতি হয়েছে। তার আক্রমণাত্ন ও গতিময় বোলিং দিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে নিয়েছে। মূলত তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম বোলিং স্তম্ভ।তার গল্পটা লড়াইয়ের, কঠোর পরিশ্রমের, অক্লান্ত সাধনার।

এক নজরে অনুচ্ছেদ সমূহঃ

১) জন্ম ও শৈশব
২) ব্যক্তিগত জীবন
৩) শিক্ষা জীবন
৪) বৈবাহিক জীবন
৫) যাদের অনুপ্রেরণায় ক্রিকেটার হওয়া
৬) খেলোয়াড়ি জীবন
৭) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক
৮) জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়া
৯) বিপিএল এ অর্জন
১০) রাজনৈতিক জীবন
১১) মাশরাফিকে নিয়ে লেখা বই
১২) সম্মাননা

 জন্ম ও শৈশবঃ প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার এর জন্ম বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত নড়াইল জেলায় ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর। ছোটবেলা থেকেই তার ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল। যদি ও শৈশবে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন বেশি খেলতেন। পরে ক্রিকেট বোলিং এর দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি “নড়াইল এক্সপ্রেস” নামে পরিচিত। তাকে নড়াইলবাসী” প্রিন্স অব হার্টস” নামে অভিহিত করে।

ব্যক্তিগত জীবনঃ মাশরাফির পিতার নাম গোলাম মোর্ত্তজা। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মায়ের নাম হামিদ মোর্ত্তজা। তিনি একজন গৃহিণী। পিতা- মাতা তাকে আদর করে কৌশিক বলে ডাকতেন। পরিবারের সবার কাছে তিনি এই নামেই পরিচিত। তার ছোট ভাই মোরসালিন বিন মোর্ত্তজা একজন ক্রিকেটার এবং ডান হাতি পেসার (বোলার)।

শিক্ষা জীবনঃ ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় নড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি ভর্তি হন নড়াইল সরকারি বিদ্যালয়ে। ২০০১ সালে ঐ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাস করেন। তিনি এইস এস সি পাস করেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ২০০৩ সালে। এরপর দর্শন শাস্ত্রে অনার্সে ভর্তি হন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ক্রিকেটের ব্যস্ততার কারণে তার একাডেমিক পড়াশুনা শেষ হয়ে ওঠেনি।

বৈবাহিক জীবনঃ মাশরাফি ও তার স্ত্রী সুমনা হক সুমী একই কলেজে পড়তেন। কলেজে থাকতে তারা দুইজন দুইজনকে পছন্দ করতেন। কিন্তু প্রথম দিকে পরিবারের অমত ছিল তাদের বিয়েতে। পরে মাশরাফির মামার অপ্রাণ চেষ্টায় তাদের শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাদের সন্তান দুইজন এক ছেলে ও এক মেয়ে। দাম্পত্য জীবনে তারা এক যুগ অতিক্রান্ত করেছে।

যাদের অনুপ্রেরণায় ক্রিকেটার হওয়াঃ নব্বই এর দশকে শরীফ মোহাম্মদ হোসেন যিনি নড়াইল ক্রিকেট সংগঠক। তিনি মাশরাফিকে নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবে খেলার সুযোগ করে দেন। তখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর।১৯৯১ সালে তার পরিচয় হয় বিকেএসপির কোচ বাপ্পির সাথে। বোলিং এর অনেক মৌলিক বিষয় বাপ্পি তাকে শেখান। ১৯৯২ সালে জাতীয় দলের কোচ ওসমান খানের সাথে পরিচয় হয় তার। ওসমান খান তার বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ১৭ দলে খেলার সুযোগ করে দেন। পরবর্তীতে অনুর্ধ্ব ১৯ দলে অ্যান্ড রবার্সের তত্বাবধানে জিম্বাবুয়ে দলের বিরুদ্ধে এ দলের খেলায় তিনি সুযোগ পান। সেই সিরিজে এক ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে তার নাম হয়ে যায় “নড়াইল এক্সপ্রেস”। এরপর ইনজুরি ছাড়া কেউ তাকে আটকাতে পারে নি।

খেলোয়াড়ি জীবনঃ তিনি একজন সফলতম ডানহাতি পেস বোলার। তিনি তার আক্রমণাত্নক, গতিময় বোলিং দিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী বোলিং কোচ অ্যান্ডি রবার্টস এর নজর কেড়েছিলেন। তখন তিনি অনুর্ধ্ব ১৯ দলে খেলতেন। পরে কোচের পরামর্শক্রমে তাকে বাংলাদেশ জাতীয় দলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলে একটি মাত্র ম্যাচ খেলে তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকঃ ১৯ বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেটে চিরদিন মনে রাখার মত একটি দিন। এই দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছিল এই কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের। শুরুতেই বোঝা যাচ্ছিল এই তারকার হাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আশা ভরসার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠলেন তিনি।১ম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৬ রানে ৪ টি উইকেট নিয়েছিলেন। এটিই তার প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ। ২য় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ রানে ৪ উইকেট পান।কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ে তার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি ব্যাস্টম্যান অ্যাডাম গিলস্টকে শূন্য রানে আউট করেন। ১০ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দেন।

মূলত বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পিন বোলারের অভাব ছিল না, পেস বোলারের অভাব ছিল। তিনি সেই অভাব পূর্ণ করেন। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জয়ে তিনি ভূমিকা রাখেন। ঐ দিন তিনি শুধু বোলার হিসেবেই না ব্যাস্টম্যান হিসেবে ও পরপর চার বলে ছক্কা মেরে ২৬ রান করেছিলেন। যা ঐ দিন বাংলাদেশের জয়কে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল কোন বাংলাদেশী ব্যাস্টম্যানের ওয়ানডেতে এক ওভারে সর্বোচ্চ রেকর্ড। শুধু তাই নয় তিনি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২১৬ উইকেট স্বীকার করেন।

জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বঃ ২০১০ সালের শুরুতে তিনি সহ অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতেন। ঐ বছরই জুন মাসে অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি। তার সহকারী অধিনায়ক ছিল সাকিব আল হাসান। অধিনায়ক হিসেবে ১ম ম্যাচেই তার সফল অধিনায়কত্বে জয় লাভ করে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার পায়ে চোট লাগে ঐ ম্যাচে। ইনজুরির কারণে তাকে অনেক দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়। ২০১৪ সালে এই কিংবদন্তি আবার ক্রিকেটে ফিরে আসেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পুনরায় অধিনায়কত্ব লাভ করেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পূর্বের তুলনায় অনেক ভালো ফলাফল করেছিল। ৮৮ টি ওয়ানডেতে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং ৫০ টি তে বাংলাদেশ দল জয় লাভ করে।

বিপিএল এ অর্জনঃ বিপিএল কাঁপানো খেলোয়াড় তিনি বিপিএল এর ছয় আসরে চার বারই বিজয়ী ক্যাপ্টেন তিনি। বিপিএল এর ১ম দুই আসর ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটসকে নেতৃত্ব দেন তিনি এবং তার দল বিজয়ী হয়। এরপর ২০১৫ সালে বিপিএলের তৃতীয় আসরে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলেন। তার নেতৃত্বে কুমিল্লা শিরোপার স্বাদ পায়। ২০১৭ সালে রংপুরকে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী করেন। এ থেকেই বোঝা যায় বিপিএল এর সেরা ক্যাপ্টেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনঃ ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল ২ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিদ্বন্বিতা করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তিনি যে কত জনপ্রিয় এই নির্বাচনই তার প্রমাণ।

মাশরাফিকে নিয়ে লেখা বইঃ তার জীবনী গ্রন্থের রচয়িতা দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। প্রতিটি মানুষের জীবনে উত্থান পতনের গল্প আছে। কিন্তু মাশরাফির গল্পটা অনুপ্রেরণাদায়ক। এ সম্পর্কে লেখক দেবব্রত বলেন জীবনে কিছু অর্জনের জন্য যারা লড়াই করে ক্লান্ত বোধ করছেন তাদের সাহস জোগাবে এই জীবনী গ্রন্থটি। দেবব্রত আরো বলেন জীবনে অনেক সংগ্রাম এর গল্প পাবেন কিন্তু মাশরাফির মত লড়াই করে শিখরে ওঠার গল্প এটি।

সম্মাননাঃ বাংলাদেশী তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলাধূলায় কলকাতার এপিবি আনন্দ টেলিভিশন চ্যানেলের “সেরা বাঙালি ” সম্মাননা পান তিনি। এর আগে সাকিব ও হাবিবুল বাসার এই সম্মাননা পেয়েছিল। ২০১৭ সালে ভারতীয় ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামীর হাত থেকে এই পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

ESPN পরিচালিত world fame 100 এ ১০০ জন খেলোয়াড়দের মধ্যে তার নাম খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি বাংলাদেশর ৫ম বোলার যে অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ১০০ টি উইকেট স্বীকার করেন। নড়াইলের একজন সাদামাটা কিশোর যিনি তার প্রতিভা ও নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়েছে।

তার অবসর শেষেই আসে তার উত্তরসূরির কথা জাতীয়দলকে নেতৃত্ব দিয়ে পঞ্চপাণ্ডবের যেই জুটি সে দাড় করাতে সক্ষম হয়েছে সেখান থেকেই আগামীর নেতা হয়ে উঠবে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, কিংবা তামিম ইকবাল। হয়তো এই ম্যাশকে আর পাওয়া যাবে না তবে তার ছায়া যে ক্রিকেটপ্রেমী জাতি তার উত্তরসূরিদের মাঝেই খুঁজবে।

পরিশেষে বলতে পারি ক্রিকেট থেকে অবসর নিলে ও বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় তিনি চিরকাল থাকবেন।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

লেখকঃ শিক্ষার্থী, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023