May 22, 2024, 6:13 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

রাবিতে প্রথমবারের মতো থ্যালেসেমিয়া দিবস উদযাপন

মোঃ সোহাগ আলী
  • প্রকাশের সময় : Saturday, May 8, 2021,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস।

শনিবার (৮ই মে) বিকেল তিনটায় ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম অ্যাপ এর মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক অনুষ্ঠান “Thalassemia- A silent but ignored epidemic in Bangladesh” সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

প্রোগ্রামটি  রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের (আরইউএসসি) উদ্দ্যেগে  আয়োজিত হয়।

বিশ্বে যে বংশগত রোগ নিয়ে শিশুজন্মের হার বাড়ছে তার মধ্যে থ্যালাসেমিয়া অন্যতম।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৮ই মে দিনটিকে ‘বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করেছে, এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে।

এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়:”বিশ্বব্যাপী থ্যালাসেমিয়া রোগীদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবার অসমতা আলোকপাত করা” কে সামনে রেখে অারইউএসসি “বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন” এর সহযোগিতায় একটি ভার্চুয়াল  সেমিনারের  আয়োজন  করেছিলো।

থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অংশের একটি অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগ।ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিন হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশে ত্রুটি সৃষ্টি করে। এই কারণে, লোহিত রক্তকণিকার আয়ু স্বাভাবিক ১২০ দিন থেকে কমে মাত্র ২০-৬০ দিনে নেমে আসে। ফলে মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। যার ফলে এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন না করলে তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। তাই প্রতিমাসে মাসে এক বা একাধিকবার রক্ত দিতে হয়।

বাবা-মা দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তাহলে শিশুর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে ভূমিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%, বাহক শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা ৫০% আর সুস্থ শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা ২৫%।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ লোক থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক এবং মারাত্মক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। থ্যালাসেমিয়া বাহকদের পরস্পরের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন করে ৭ থেকে ১০ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম নিচ্ছে। সচেতনতার অভাবে দিনে দিনে এই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই রোগ থেকে বাচার প্রধান মাধ্যম সচেতনতা। এই রোগীদের চিকিৎসা বলতে প্রতিমাসে রক্ত নেওয়া ও চিকিৎসকের কাউন্সিলে থাকা। তবে  সম্পূর্ন নিরাময়ের জন্য আজকাল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু থেরাপি।

থ্যালাসেমিয়া- এই নীরব ঘাতক, কেবল একজন ব্যক্তিকেই প্রভাবিত করে না, একটি পরিবারকে আর্থিক মানসিক দিক থেকেও প্রভাবিত করে। তবে আশার কথা হল এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। সামাজিক সচেতনতা এবং থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক জ্ঞানই পারে এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে। তাই, রাবি সায়েন্স ক্লাব ৮ই মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে “বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন”  এর সহযোগিতায় একটি সেমিনার আয়োজন করেছে। যেখানে অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয়  এর ১৫০ এর ও অধিক শিক্ষার্থী।

আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য গবেষক এবং চিকিৎসক ড. মোঃ সারোয়ার হোসাইন, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও সহযোগী অধ্যাপক,স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ। প্রধান অতিথি হিসেবে  ছিলেন   প্রফেসর  মাসুমা রহমান, ভাইস চেয়ারপার্সন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন।

অালোচকগন বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পারি নাই, বাংলাদেশে কত জন থ্যালাসেমিয়া রোগী আছে। আপনাদের মধ্যে  যদি কারো একজনের থ্যালাসেমিয়া থাকে সেই শুধু জানে এর ভয়াবহতা ।থ্যালাসেমিয়া এমন একটা রোগ যেটা আপনার সাথে কবর পর্যন্ত যাবে। তারমানে প্রতি মাসেই আপনাকে রক্ত দিতে হবে, ঔষুধ থেতে হবে। এর ফলে অাপনার পরিবার আর্থিক ভাবেও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে ।

যদি কারো থ্যালাসেমিয়া মনে হয় তাহলে তাকে থ্যালাসেমিয়া সেন্টারে এসে পরীক্ষা করতে হবে এবং আদৌ আছে কি না ,থাকলেও সেটা  কি ধরনের থ্যালাসেমিয়া তা জানতে হবে।আমাদের দেশে এ রোগ হলে শুধু রক্তের  ওপর নির্ভর করতে হয় এবং ঔষধ খেতে হয় ।এর বাহিরে তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নাই।কাজেই আমাদের এ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।আমাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ও জানতে হবে আমাদের পরবর্তী বাহক আসার আগে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক থাকলে পরবর্তী পরীক্ষা গুলো করা উচিত।

এখন থ্যালাসেমিয়ার অনেক রোগী আছেন যারা রক্তের জন্য অনেক দ্বারে দ্বারে ঘোরেন। তাই আমাদের যুবসমাজের সবাইকে রক্তদানে ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। থ্যালাসেমিয়ার ট্রিটমেন্টের চেয়ে প্রতিরোধ করা সহজ।তাই আমাদের উচিত এটা প্রতিরোধের ওপর সচেতন হওয়া।

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন অারইউএসসি’র সভাপতি মোঃ ইশতেহার আলী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান । অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত  বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাকালিন  সহ সভাপতি  ও স্থায়ী  কমিটির সদস্য অলোক  কুমার পাল।

সভাপতি ইশতেহার আলী বলেন, রাবি সায়েন্স  ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নতুন নতুন প্রোগ্রাম উপহার দিয়ে যাচ্ছে।যার ধারাবাহিতায় প্রথম বারের মতো থ্যালাসেমিয়া  নিয়ে এই আয়োজন।  সাধারণ  মানুষের মাঝে এই জিন ঘটিত রোগ নিয়ে সচেতনতা  সৃষ্টি করবে বলে আশা করা যায়। তিনি  বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন কে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ  জ্ঞাপন করেন।

এছাড়াও  উপস্থিত  ছিলেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন   উপদেষ্টামন্ডলী , স্থায়ী  কমিটির সদস্য ও বর্তমান কমিটির সদস্যগন।

রাবি/

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023