May 24, 2024, 2:13 am
শিরোনাম
গিয়াস ও সামির নেতৃত্বে ইবি’র কক্সবাজার জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি পবিপ্রবিতে অফিসার্স এসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা পবিপ্রবিতে ‘পাওয়ারিং দ্যা ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার ইবিতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির পুনর্মিলনী ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

কোজাগর রাতের রাজকুমারী

আখতারুজ্জামান চৌধুরী
  • প্রকাশের সময় : Sunday, May 2, 2021,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

তখন বোধ হয় মাঝ রাত,
কোজাগরী পূর্ণিমার চন্দ্রিমা
সবে পশ্চিমে হেলতে শুরু করেছে।
আকাশজুড়ে সোনালী সমুদ্রে
শুধু মিটি মিটি প্রদীপ জ্বলছে।
কাশঁ ফুলের শ্বেতশুভ্র আঁচল জড়িয়ে
দুই-এক ফালি মেঘ- পাহাড়ে পাহাড়ে
কিশোরী বালিকার মত লুকোচুরি খেলছে।

গহীন পাহাড়ী অরণ্যে আলো-আঁধারির
ছায়ায় ঘেরা একটি বাড়ি।
বাড়িটি নিশুতি নিঝুম রাতের
শুনসান নিরবতার চাদরে ঢাকা।
দূরে কোথাও সাম্বার
অথবা
বৃক্ষচারী মেঘলা চিতার ডাক,
কিংবা
দামা-ছাতারে দলের চঞ্চলতা-
রাতের নিস্তব্ধতা খান খান করে দিচ্ছে।
কোনো নিশাচর পশু হেটে চলেছে
শিকারের খোঁজে নিশ্চয়।

আবার পাহাড়ী পেঁচা বা ভুতুমের ছোট্ট ছানার
নিরন্তর ক্রন্দন অথবা
জমকুলির মগডালে বসে কু-উ শব্দ,
রাতটিকে ভৌতিক করে তুলছে।
গন্ধগোকুলের ছোট একটি দল- বৃক্ষ থেকে শাখা,
আবার শাখা থেকে এডাল-সেডাল করছে,
ফল-ফলাদির খোঁজে।
অথবা প্রজননেচ্ছু কারো পিছু নিচ্ছে বোধ হয়।

রাত অনেক গভীর হলেও
কেনো জানি ঘুম আসছে না তার,
এপাশ ওপাশ করে চলেছে…।
হঠাৎ
মেরুজ্যোতির মত পান্না সবুজ আলো ছড়িয়ে
কে যেনো এসে দাঁড়ালো।
কোনো রমনী নাকি অশরীরী কেউ ?
ঘুমকাতুরে যুবকটি অপলোক চেয়ে থাকলো-
কাকচক্ষুর মত গভীর কালো চোখে চোখে
অনেক কথা হলো…।
রিনিঝিনি শব্দ করে রাজ্যের রূপ নিয়ে সেই
অচেনা অপরূপা ধীরলয়ে এসে শিয়রে বসলো তার।
মখমল তুলতুলে হাত মাথায় রেখে মুচকি হেসে বললো-
আমি কোজাগর রাতের রাজকুমারী,
ঘুম আসছে না বুঝি ?
হ্যাঁ, ঘুম আসছে না কেনো জানি, বললো যুবকটি।
আমি তো তোমাকে ঘুম পাড়াতেই এসেছি।
এই তো-
তোমার মাথায়, কপালে হাত বুলিয়ে দিই-
ঘুমিয়ে পড়।
কখন যেনো আনমনে শাড়ির আঁচল খসে গেল তার,
অসম্ভব সুন্দর অধর, ওষ্ঠ…
আর বুনো সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে ঝুঁকে বললো-
এখন কি ঘুম পাচ্ছে তোমার ?
ঘুমতো আসতো, কিন্তু-
কিন্তু আবার কী ?
তোমায় একটি প্রশ্ন করি ?
হ্যাঁ, করো-
তুমি কি সত্যিই কোজাগর রাতের রাজকুমারী ?
তোমাকে কি ছোঁয়া যায় ?
আমায় ছোঁয়া বেশ দু:সাধ্য,
বহু প্রতীক্ষার পরই কেবল আমাকে ছোঁয়া যায়,
আমাকে পাওয়া যায়।

এই আমাকে ছোঁয়া,
আর কোন নারীকে ছোঁয়া তো এক নয়।
ভালোবাসার সমুদ্র পেরিয়েই কেবল কোন নারীকে পাওয়া যায়।
পুরুষও কি তাই ?
তুমিই বলো-
আমাকে স্পর্শ করা আর কোনো পুরুষের বাহুডোরে
আবদ্ধ হওয়া তো এক নয়।
অনুরাগের তরী বেয়ে বহু যোজন পথ পাড়ি দিয়েই
কেবল কোন পুরুষের কাছে পৌঁছানো যায়।
আমি তো অনন্তকাল ধরে সেই তরী বেয়ে বেয়ে অসীম দূরত্ব পেরিয়ে তোমার কাছে এসেছি,
তোমাকে স্পর্শ করেছি।
আর কতটা ঘনিষ্ঠ হলে তোমার কাছে পৌঁছানো যায় ?
সব ঘনিষ্ঠতাই তো আর কাছে আসা নয়,
আবার সব দূরত্বই তো দূরত্ব নয়।
থাক সেসব কথা- বললো যুবকটি।
আচ্ছা তোমায় একটু ছুঁয়ে দেখি-
দেখো- বললো অপরূপা।
তুমি তো স্নিগ্ধ মায়াবী আলোর দ্যুতি,
কোথায় স্পর্শ করবো তোমায় ?
যেখানে ইচ্ছে তোমার, বললো-
কোজাগর রাতের রহস্যময়ী রাজকুমারী।
রাজকুমারীর উষ্ণ পরশে ক্লান্ত হয়ে
যুবকটি কখন যেনো ঘুমিয়ে পড়েছিল।

একটু দেরিতেই ঘুম ভাঙলো তার।
সত্যিই কি কেউ এসেছিল, ঘুম পাড়িয়েছিল তাকে ?
নিবীড় আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেছিল ?
একি সত্যি নাকি স্বপ্ন ?
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চমকে উঠলো যুবকটি!
ঠোঁটের একপ্রান্তে রেখে গেছে সে-
মোহনীয় উদ্যাম রজনীর গাঢ় চুম্বনের রাঙা চিহ্নটুকু।

কবিঃ
সহকারী অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ, সরকারি বাঙলা কলেজ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023