June 13, 2024, 2:19 pm

জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড়

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : Saturday, May 18, 2024,
  • 252 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটে এক নেত্রীকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে। ওই নেত্রী শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের ‘মেয়ে বন্ধু’ (গার্লফ্রেন্ড) বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। তাকে নিয়োগ দিতে চাপ প্রয়োগের জন্য ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় শুক্রবার গভীর রাতে একটি গোপন বৈঠক করা হয়েছে। এর আগেও একই নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের বাসভবনে গোপন বৈঠক হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ওই নেত্রীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটে তিনজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয় কয়েকমাস আগে। আগামীকাল রোববার শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে। এতে আবেদন করেছেন হাবিবুর রহমান লিটনের মেয়ে বন্ধু আনিকা সুবাহ। সুবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ ব্যাচের দর্শন বিভাগের ছাত্রী। তাকে নিয়োগ দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৯ মে) নিয়োগ বোর্ড বসবে এ খবর শোনার পর শুক্রবার (১৭ মে) গভীর রাতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের দোতালার একটি কক্ষে গোপন বৈঠক করে হাবিবুর রহমান লিটন। বৈঠকে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রনেতা যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপদে কর্মরত রয়েছেন। এসময় লিটনের সঙ্গে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে তিনি দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। এছাড়া শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে শোডাউন দিয়ে উপাচার্য বাসভবনে যান। এই শোডাউনে সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারীরা থাকলেও লিটন নিজে উপস্থিত ছিলেন না।

তবে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী সূত্রে জানা যায়, শনিবার শোডাউনের পর কৌশলগত কারণে লিটন উপাচার্য অধ্যাপক মো নূরুল আলমের বাসভবনে যাননি। তিনি না গিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলকে দিয়ে উপাচার্যকে চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। এসময় উপাচার্যের বাসভবনে যেসব নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করেছিলেন গোপনীয়তার স্বার্থে তাদের সবার ফোন বাইরে রেখে প্রবেশ করতে বলেন ছাত্রলীগ সভাপতি। তবে এসময় উপাচার্য বাসভবনে অবস্থান না করায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দেখা করতে পারেননি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য স্যারের সাথে দেখা হয়না। তাই আমরা সৌজন্যে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। তবে স্যার ব্যস্ত থাকায় আমাদের সাথে দেখা হয়নি। আগামীকালের নিয়োগ বোর্ড নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। আমরা এ বিষয়ে কিছু জানতামই না।’

এদিকে ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানায়, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ওরফে লিটন তার মেয়েবন্ধুকে নিয়োগ দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে আসছেন। বিষয়টি সামনে আসে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর। বুদ্ধিজীবী দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির দিন সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের বাসভবনে শিক্ষক পদে আবেদনকারী আনিকা সুবাহকে নিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাতে লিটন তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়োগ দিতেও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ছিল।

এদিকে ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়োগে চাপ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দর্শন বিভাগের একজন শিক্ষার্থীকে কীভাবে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটে নিয়োগ দেয়া হয়? শুধু ঐ ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়োগ দিতে সার্কুলারে দর্শন বিভাগকে আবেদনের যোগ্যতায় যুক্ত করা হয়। এরকম তদবিরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হলে কেন এত বছর আমাদের বিভাগে ইচ্ছাকৃত শিক্ষক সংকটে রাখা হলো তার জবাব চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভাগ তদবিরে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমাদের মাস্টার্সের রেজাল্টও আটকে রেখেছে যাতে করে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে না পারে।

নিয়োগে চাপ প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। তবে তুলনামূলক সাহিত্যের পরিচালক শামীম রেজা স্যারের সাথে দেখা হয়নি।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেত্রীকে নিয়োগে প্রশাসনের অনেকটাই ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। ইতোপূর্বে কয়েকটি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে ছাত্রলীগের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ না দেয়ায় প্রশাসন অনেকটাই চাপের মুখে রয়েছে।

নিয়োগে চাপ প্রয়োগ ও প্রশাসনের তোড়জোড়ের বিষয়ে জানতে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীম রেজার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি। একই বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সাথেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023