May 24, 2024, 1:32 am
শিরোনাম
গিয়াস ও সামির নেতৃত্বে ইবি’র কক্সবাজার জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি পবিপ্রবিতে অফিসার্স এসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা পবিপ্রবিতে ‘পাওয়ারিং দ্যা ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার ইবিতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির পুনর্মিলনী ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

জাবিতে নিপীড়ক শিক্ষক জনির অব্যাহতিসহ পাঁচ দাবিতে মশাল মিছিল 

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : Monday, February 19, 2024,
  • 2 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনির অব্যাহতিসহ পাঁচ দফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছে ‘নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ’।  

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়৷ মিছিলটি অমর একুশের সামনে দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবন হয়ে পরিবহন চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হলো-জাবিতে সম্প্রতি সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, নিপীড়কদের সহায়তাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টের অপরাধ তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক পদ হতে অব্যাহতি প্রদান, অছাত্রদের হল থেকে বিতাড়িত করা এবং ক্যাম্পাসে মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব জামানের সঞ্চালনায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আরিফ সোহেল বলেন, ইউজিসি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে যা আমাদের দাবির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। নিপীড়ক শিক্ষক জনির ব্যাপারে ইউজিসি থেকে প্রশাসনকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা আসার পরও প্রশাসন গড়িমসি করলে; কোনভাবে নিপীড়কদের আশ্রয় দেয়ার চিন্তা করলে প্রশাসনের কপালে খারাবি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে৷

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৌহিদ সিয়াম বলেন, ৩ তারিখের ঘটনার পর থেকে আমরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আবাসিক হল থেকে অছাত্র নামানোর নামে দূর্বলতম ছাত্রদের উপর প্রশাসনের প্রহসন চলছে। ক্যাম্পাসে হলে হলে র‍্যাগিং হচ্ছে। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বীরদর্পে ক্যাম্পাসে ঘুরে বড়াচ্ছে। কোন পলিয়িকাল ব্লকে না গিয়ে একটা আইওয়াশ করা হয়েছে৷ প্রশাসন যদি ২০ তারিখের সিন্ডিকেটে আশানুরুপ সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে ভর্তি পরীক্ষা বিঘ্নিত হলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে৷

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস অব্যাহত রাখে। নিপীড়নের অভিযোগ উঠার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও জনি একইভাবে শিক্ষক পদে বহাল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়খেকো এ প্রশাসনকে  দড়ি বেঁধে নামাতে আমাদের দুই দিনও লাগবে না। প্রশাসন নন এলোটেডদের বের করার নামে ছাত্রদের হয়রানি করছে৷ যেদিন সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে লিগাল স্টেপ নিবেন সেদিন আমরা আশ্বস্ত হবো৷

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, আমরা ১৬ দিন যাবৎ এ আন্দোলন চালাচ্ছি৷ এদিকে প্রশাসন জনির বিচারের দাবি তোলায় সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করেছেন। ২০ তারিখের সিন্ডিকেটে তার শাস্তি না হলে সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করা হবে। সকল নিপীড়কদের শাস্তির আওতায় নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলংকমুক্ত করতে হবে।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কনোজ কান্তি রায় বলেন, নিপীড়নের সাথে; গেস্টরুমের সাথে; সন্ত্রাসের সাথে শিক্ষার শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই৷ প্রশাসনের নাকের ডগায় এখনো নিপীড়কের বিচার হচ্ছে না। রাজার হালে অবৈধ ছাত্ররা হলগুলোতে অবস্থান করছে। আমরা স্পষ্ট ঘোষণা জানাচ্ছি, নিপীড়ক মাহমুদুর রহমান জনির সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে কোন ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে না৷

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল রকিব বলেন, জাহাঙ্গীরনগর সব সময়ই প্রতিবাদের জায়গা৷ অতীতের মতো ছাত্র-শিক্ষক মিলে প্রমাণ করতে চাই এখানে কলুষিত ব্যক্তিদের কোন ঠাঁই নেই৷ আমরা চাই প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আপনারা বিশ্ববিদ্যালিয়ের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন।

নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের সদস্য সচিব মেঘ বলেন, অবিলম্বে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিতে হবে। আমরা প্রশাসনের এসব ছলচাতুরি বুঝি।  আগামীকালের সিন্ডিকেটে স্পষ্ট ঘোষণা না পেলে আমরা ভর্তিনপরীক্ষা আটকাতে বাধ্য হবো৷

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023