May 22, 2024, 6:19 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

“জলবায়ু পরির্বতনঃ ব্যাপক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ”

তাসনিম জাহান তুলি
  • প্রকাশের সময় : Sunday, April 25, 2021,
  • 20 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
বৈশ্বিক বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অতীতের তুলনায় দ্রুত হারে বাড়ছে। বর্তমান বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। বায়ুমন্ডলের এই তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সম্পর্ক রয়েছে গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়ার। দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই জলবায়ু পরির্বতনের অন্যতম কারণ। জলবায়ুর পরির্বতন পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকেই  পরির্বতনশীল। যার সাথে সমস্ত প্রাণীকুল নিজেদের  খাপ খাওয়াতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত ১৫০ থেকে ২০০ বছর ধরে পৃথিবীর জলবায়ুর দ্রুত গতিতে পরিবর্তন ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা জলবায়ুর এই দ্রুত পরির্বতনের  জন্য মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করছেন।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর  অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাব বলতে বৈশ্বিক  জলবায়ু পরির্বতনের ফলে যে স্থায়ী বা স্বল্পকালীন নেতিবাচক বা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে  এর সমগ্রিক বিশ্লেষণ কে বোঝায়। জলবায়ু পরির্বতন জৈব প্রক্রিয়া সমূহ, সৌর বিকিরণের পরির্বতন,  ভূত্বক গঠনের পাততত্ত্ব , আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতসহ আরও বেশ কিছু নিয়ামকের উপর নির্ভরশীল।
গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বে জলবায়ু  পরির্বতনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ। জলবায়ু  পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ত সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরির্বতন, প্রাকৃতিক  সম্পদ হ্রাস, মৎস্যসম্পদ হ্রাস,খাদ্য সংকটসহ আরও বিভিন্ন  ক্ষেত্রে  ক্ষতিগ্রস্ত  হচ্ছে । এছাড়া এই অঞ্চলে পূর্বের তুলনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও বেড়ে গেছে। পূর্বে যেখানে ১৫ কিংবা ২০ বছর পরপর বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিতো, সেখানে এখন প্রতি ২ বছর বা ৩ বছর অন্তর বড় বড় দুর্যোগ  আঘাত হানছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং  ব্যাপক  ক্ষতির সম্মুখীন  হবে বলে জানিয়েছেন জলবায়ু গবেষকরা।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ এর প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (সিআরআই) অনুযায়ী, জলবায়ু পরির্বতনজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ  ১০ টি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান বাংলাদেশের। সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য ক্ষতিগ্রস্ততার বিচারে বিশ্বব্যাপী  গবেষকগণ  বাংলাদেশকে ‘পোস্টার চাইল্ড’ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়াও দেশ বিদেশের  সংবাদভিত্তিক বিভিন্ন চ্যানেলে বাংলাদেশের জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাবের বিষয়টি বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে। বিবিসিতে সিমন রীভ এর উপস্থাপনায় তথ্যচিত্র ভিত্তিক টিভি সিরিজ ‘ট্রপিক অফ ক্যান্সার ‘এর ৬০ মিনিটব্যাপী ৫ পর্বে পদ্মানদীসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাবে নদীভাঙ্গনের তীব্রতা তুলে ধরা হয়েছিল।তাছাড়া লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, লাইলা কনার্স পিটারসন, চাক ক্যাসেলবেরি এবং ব্রায়ান গার্বারের তৈরী পরিবেশভিত্তিক তথ্যচিত্র ( ডকুমেন্টারি ফিল্ম ) দ্য ইলেভেন্ত আওয়ার এ দেখানো  হয় সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ এবং নেদারল্যান্ডে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তসরকার জলবায়ু পরির্বতন  সংক্রান্ত প্যানেল এর তথ্যমতে, ২০৫০ সাল নাগাদ  সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধির কারণে  বাংলাদেশের অন্তত ১৭ শতাংশ ভূমি সমুদ্রে গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্য সায়েন্টিফিক  কমিটি অন এন্টার্কটিক রির্সাচ (এসসিএআইআর) জানিয়েছে, যে হারে এন্টার্কটিকার বরফ গলছে, তাতে ২১০০ সাল  নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫ ফুট। এ পরিমাণ  উচ্চতাবৃদ্ধিতে  বাংলাদেশের প্রায় এক পঞ্চমাংশ সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংক প্রকাশিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঝুঁকিপূর্ণ ১২ টি দেশের তালিকায়  বাংলাদেশের অবস্থান দশম। এরকম অকস্মাৎ সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের প্রায় ৮% এরও বেশি  নিম্নাঞ্চল ও প্লাবনভূমি আংশিক অথবা স্থায়ীভাবে  জলমগ্ন হয়ে পড়বে। এছাড়া ওয়াল্ড ওয়াইল্ডলাইফ  ফান্ড এর  মতে, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঢাকাও আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ইউনেস্কোর ‘জলবায়ু পরির্বতন  ও বিশ্ব ঐতিহ্যর পাঠ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি  সহ বৈশ্বিক জলবায়ু পরির্বতনের নানা কারণে সুন্দরবনের ৭৫ শতাংশ ধ্বংস  হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ  প্রাকৃতিক  সম্পদ হ্রাসে  পরিবেশের উপর ব্যাপক বিরুপ প্রভাব পড়বে। একই কারণে দেশে উল্লেখযোগ্য  হারে  জীবজন্তুর পরিমাণ হ্রাস পাবে, কৃষিভিত্তিক  উৎপাদন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।
জলবায়ু পরির্বতনের  জন্য হঠাৎ  উদ্ভুত নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশে আঘাত হানতে পারে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন এবং ভূমিধ্বসের মাত্রাবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য  হারে বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বব্যাংক  প্রকাশিত  তালিকায় প্রাকৃতিক ঝড়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ  ১২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এছাড়াও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এর গবেষণা মতে বাংলাদেশের উপকূলের ১৪ টি জেলা জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে, দিনদিন বৃষ্টিপাতের  পরিমাণও কমে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ভূগর্ভস্থ  পানির স্তর নেমে গিয়ে খরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্মুখীন হবে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ। ব্যাপক এই খরার কারণে দেশের উত্তর অঞ্চলে মরুকরণ দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অদূর ভবিষ্যতে সুপেয় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। দেশে উপকূল অঞ্চলে জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি  পাবে। দেখা দিবে ব্যাপক  খাদ্য সংকট। প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্ভর উপজীবীরা জীবিকা হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়বে। একটি জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের  আদ্রর্তার মাত্রা দিনদিন কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ বার্ষিক  গড় বৃষ্টিপাত  ১০-১৫ ভাগ এবং ২০৭৫ সাল নাগাদ তা প্রায় ২৭ ভাগ বেড়ে যাবে।এই  বাড়তি পানি বাংলাদেশের উপর দিয়ে সমুদ্রে  যাবার সময় তীব্র বন্যার সৃষ্টি হবে। এছাড়া সমুদ্রস্তরের উচ্চতাবৃদ্ধি এবং উপকূলে লবণাক্ততা বাড়ায় সূর্যের  তাপে তুলনামূলকভাবে লোনাপানি বেশি তাপ শোষণ করে যার জন্য আবহাওয়া আরও গরম হয়ে উঠবে। জলবায়ু পরির্বতনে পাহাড় দুর্বল  হয়ে  ভূমিধ্বস  ঘটবে। আশঙ্কার কথা হলো প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধ্বস দিনদিন কেবল বাড়ছেই। এছাড়া ভূমিকম্পের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে চরমভাবে। জাতিসংঘ পরিচালিত  রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট এরিয়াস এগেইন্সট সাইসমিক ডিযাস্টার( রেডিয়াস) জরিপে ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের ২০ টি শহরের মধ্যে ঢাকা অন্যতম।
 জলবায়ু পরির্তনের ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্য  ঝুঁকিতে পড়বে। সংক্রমণ ও কীটপতঙ্গ বাহিত রোগ এবং তাপপ্রবাহে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআর,বি) গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে জলবায়ু  পরির্বতনে তাপমাত্রা  বাড়ার কারণে অনেক বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হবে।
জলবায়ু পরির্বতনে যৎসামান্য  ইতিবাচক  প্রভাবও ফেলবে। বিগত ৬৫ বছরে পলি জমা হয়ে বাংলাদেশের উপকূলে ১,৮০০ কিলোমিটার ভূমি জেগে উঠেছে। এছাড়া একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক  সম্পদ ধ্বংস  হয়ে যাবে।অপরদিকে বিরুপ অবস্থার সুযোগ নিয়ে  টিকে যাবে সীমিত সংখ্যক প্রাকৃতিক  সম্পদ। সুন্দরবনে কুমির ও শুকরের সংখ্যা বেড়ে যাবে। মাটির তলবাসী প্রাণীসম্পদ ও চরবাসী কীটপতঙ্গ  বাড়বে। কিছু পরিমাণ উদ্ভিদ প্রজাতিও বৃদ্ধি  পাবে। লবণাক্ততার নতুন চারায় গরান, গেওয়া, পশুর, ধুন্দল, ঝানা, গুড়াল, কাকঁড়া গাছের পরিমাণ  বাড়বে। এতে জ্বালানি কাঠ বৃদ্ধি  পাবে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজন সম্মিলিত  কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এই ঝুঁকি মোকাবেলায়  ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস সম্প্রচার, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন,উপকূলীয় অঞ্চল বাসীদের যথা সময়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, দ্রুত ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ, উপকূলীয়  বাধঁ তৈরী, লবণাক্ততা ও খরা সহিষ্ণু  ফসলের জাত উদ্ভাবন, বাঁধ ও বাঁধ সংলগ্ন  চর এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি, নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু
পরির্বতন  ট্রাস্ট ফান্ড গঠন ইত্যাদি পদক্ষেপ  নিয়েছে। যার ফলে প্রতি বছর ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়, যা জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা বিষয়ে বিশেষ ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  জাতিসংঘ  চ্যাম্পিয়ন  অব দ্য আর্থ  পুরষ্কারে ভূষিত করেছে। বাংলাদেশ সরকার নেদারল্যান্ডের সহযোগিতায়  জলবায়ু পরির্বতনজনিত  ক্ষতি মোকাবেলায়  ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০ নামে একটি দীর্ঘ  মেয়াদি  পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে জলবায়ু পরির্বতন একটি বৈশ্বিক ইস্যু, এই সমাধানও বৈশ্বিক ভাবেই হতে হবে। জলবায়ু  পরির্বতনের  জন্য  উন্নত বিশ্বকেই প্রধানত দায়ী করা হচ্ছে। এই ঝুঁকি প্রতিরোধকল্পে গত ২২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সভাপতিত্বে বিশ্বের ৪০ টি দেশের নেতারা লির্ডাস সামিট অন ক্লাইমেট এর ধারণকৃত  ভিডিওতে যোগ দেন । সেখানে তারা বলেন, বৈশ্বিক  তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি  সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে। এর জন্য উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে। পাশাপাশি  উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও ঝুঁকি নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে।  এছাড়াও  বলেন প্যারিস চুক্তিই হচ্ছে  বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়  সবচেয়ে বাস্তব সম্মত এবং কার্যকর  বৈশ্বিক চুক্তি।
জলবায়ু পরির্বতন  প্রতিরোধে জনসাধারনেরও কাজ করে যেতে হবে। যত বেশি সম্ভব গাছ লাগানো যাবে তা ততই পরিবেশের জন্য মঙ্গল বার্তা বয়ে আনবে। কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণে বৃক্ষের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার কমাতে হবে। প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহার পরিবেশ দূষণের অন্যতম একটি কারণ, তাই এ দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে হবে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি’র মতো পূর্ণনবীকরণ যোগ্য শক্তির ব্যবহার  বাড়াতে হবে। বৈশ্বিক উদ্যোগের পাশাপাশি আসুন সকলে মিলে পরিবেশের ভারসাম্য  রক্ষায় একসাথে কাজ করি।
  • শিক্ষার্থীঃ লোকপ্রশাসন বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023