May 22, 2024, 6:11 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

আলেম সমাজের বাংলা চর্চা

হাসান তানভীর
  • প্রকাশের সময় : Monday, April 19, 2021,
  • 21 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এক সময় মাদরাসায় বাংলা পড়ানো হত না। বাঙালি আলেমদের অনেকেই তখন উর্দুতে কিতাব লিখেছেন। ছাত্ররা উর্দু মিডিয়ামে কোরান হাদিস পড়ত, পরীক্ষার খাতায় লিখত। এইটা নিয়া বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজে দারুণ খেদ ছিল। তারা বাংলা পারে না, বাঙলা ও বাঙালির মূল্য তাদের কাছে নাই।

এরপর ধীরে ধীরে মাদরাসায় বাংলা চর্চা শুরু হল। এমনভাবে শুরু হল যে তাকে এক প্রকার জোয়ার বলা যায়। দেশের সব বড় বড় মাদরাসা থেকে বাংলা দেয়াল পত্রিকা, বাংলা ম্যাগাজিন বের হতে শুরু করল। বাংলা ও বাঙালিকে আপন করে নিয়ে আলেমরা বইমেলাতেও আসতে শুরু করলেন। এখন আবার বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজে উল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হল। হায় হায়, হুজুররা বাঙালির প্রাণের মেলা দখল কইরা হালাইলো।

কাল একটা কথা বেশ চলছিল। লেখার জবাব লেখায় দাও- বলা লোকজন আলেমদের লেখা দেইখা সহ্য করতে পারতেছে না। আলেমদের লেখা কেন বেস্ট সেলার হবে এইটা নিয়া তারা বেজায় নাখোশ। তো আসেন এই বিষয়ে কথাবার্তা বলি।

আমগো এলাকায় পুলাপান একটা জোক্স কয়, হুজুর তাড়াতাড়ি হাটলে বলে সামনে দাওয়াত, তাই জোরে হাটতেছে। হুজুর আস্তে হাটলে বলে দাওয়াতে গিয়া ভোম খাওয়া খাইছে তাই হাটতে পারতেছে না। এই জোক যে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা বিশ্বাস করেন তা এই কয়দিনে পরিষ্কার হইল। হুজুর যাই করুক, তাতেই দোষ। হুজুর হয়া কবিতা লেখে, মানা যায়?

রিল্যাক্স, বুদ্ধিজীবীকুলের আফসোসের কিছু নাই।কারণ ধর্মীয় বই বেস্ট সেলার হওয়ার বিষয়টা নতুন না। এই ছবিতে যারা আছেন তারা প্রায় সবাই ধর্মীয় বিষয়ে লেখালেখি করেন এবং প্রফেশনাল লেখক না। শুধু সালাহ উদ্দীন জাহাঙ্গীর এখানে প্রফেশনাল লেখক। তিনি গল্প কবিতা শিশুসাহিত্য সবই লেখেন। এবং লেখক হিসেবেই পরিচিত। অন্যরা লেখক নয়, বরং আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তো বাংলা ভাষায় ধর্মীয় সাহিত্য নতুন কিছু না। মওলানা আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীরা বহু আগে থেকেই বাংলায় ইসলাম চর্চা করে গেছেন। তখনো তারা বেস্ট সেলার ছিলেন। ‘বিশ্বনবী’ নাই এমন বাঙালি মুসলমানের ঘর খুব কম। মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী বেহেশতি জেওরের অনুবাদ করে বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছিলেন। মাওলানা আজিজুল হল বুখারী শরিফের অনুবাদ করে বাংলায় ইসলাম চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। ধর্মীয় বই তখনো বেশি বিক্রি হত।

মূলত ধর্মীয় সাহিত্য এমন এক জিনিস যা ধর্ম যতদিন আছে ততদিন টিকে থাকবে, বেচা বিক্রি হবে। এইজন্য এখনো এহইয়ায়ে উলুমুদ্দিন, ইজহারে হক কিংবা জিয়াউল কুলুব মুসলমানরা পাঠ করে। সুতরাং তাদের মাঠ দখল কইরা ফেলল বইলা বুদ্ধিজীবীদের ভয় পাওয়ার কিছু নাই। কারণ হুজুররা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক লেখে না৷ তাদের ক্ষেত্র আর আপনাদের ক্ষেত্র আলাদা। দুইদলের প্রতিযোগিতা দুই মাঠে। একজন হুমায়ূনের সাথে ইমদাদুল হক মিলনের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু আজহারীর নাই। কারণ আজহারী ও হুমায়ূনের দৌড়ানোর ট্র‍্যাক ভিন্ন। বরং আগে যেখানে আলেমরা বাংলা চর্চা কম করত, বা কর‍ত না, সেখানে এখন তারা বাংলাতে লিখছেন এটাকে বুদ্ধিজীবীদের এপ্রিশিয়েট করা দরকার। তাদের যশ খ্যাতি দেইখা যদি আপনার হিংসা হয় তাইলে আপনিও প্রতিক্রিয়াশীল।
লেখক
হাসান তানভীর
ইংরেজি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023