May 24, 2024, 1:39 am
শিরোনাম
গিয়াস ও সামির নেতৃত্বে ইবি’র কক্সবাজার জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি পবিপ্রবিতে অফিসার্স এসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা পবিপ্রবিতে ‘পাওয়ারিং দ্যা ফিউচার’ শীর্ষক সেমিনার ইবিতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির পুনর্মিলনী ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি আসলেই প্রথম শ্রেণির নাগরিক হচ্ছেন!

রুহুল আমিন
  • প্রকাশের সময় : Wednesday, June 7, 2023,
  • 62 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আপনি বা আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হচ্ছি তখন আমাকে বা আপনাকে বলা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেনির নাগরিক। অর্থাৎ আমি বা আপনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শেষ করে ফেলব তখন থেকে আমি বা আপনি রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির নাগরিক। কারণ আমরা রাষ্ঠের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছি , তখন রাষ্ট্র আমার বা আপনার থেকে উন্নত চিনÍা ভাবনা আশা করে। রাষ্ট্র তখন আশায় বুক বাধে কারণ আমি বা আপনি তখন রাষ্ট্রের যে কোন দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
আমি বা আপনি তখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারি। আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না। কারণ আমি তখন রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির নাগরিক অর্থাৎ রাষ্ট্র আমাকে দায়িত্ব নিতে স্বীকৃতি দিয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু আমি বা আপনি একবার ও কি ভেবে দেখেছি আমরা আসলে কি পারি? পারি কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা তা আলাদা করতে? রাষ্ট্রের কোন ব্যক্তির কি কাজ এবং তা করতে কি কি লাগে তা কি জানতে চেষ্টা করেছি? বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়াশোনা করেছি তখন কি জানার চেষ্টা করেছি এই বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের নীতি কি? কিভাবে চলে এই প্রতিষ্ঠান? কাদের অনুসরণ করে। এই প্রতিষ্ঠান আমাকে কি দিচ্ছে বা আমি এই প্রতিষ্ঠানকে কি দিচ্ছি?
আমার মনে হয় একজন শিক্ষার্থীও এগুলো প্রশ্নের উত্তর খুজে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে আমি হয়ে যাব বিশ্বমানের কিন্তু নিজেকে কি বিশ্বমানের বলে দাবি করতে পারব? মনে হয় পারব না। কারণ আমার নিজের কোন স্বকীয়তা নেই৷ আমি চলি কোন প্রভাবশালী উপাচার্যের প্রোটকলে, কোন প্রভাবশালী শিক্ষকের পিছে পিছে, কোন প্রভাবশালী ছাত্রনেতাকে সহমত ভাই বলে।
কিন্তু আসলে আমাকে বা আপনাকে এমন হওয়ার কথা ছিলো? শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যখন পাঠদান করেন কিন্তু শিক্ষার্থীদের বোঝাতে অক্ষম থাকেন তখন আমরা পারিনা তানাকে কোন প্রশ্নের সম্মুখীন করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যখন নিজের পকেট ভরতে ব্যস্ত থাকে তখন আমরা থাকি নিজের সহপাঠী বান্ধবীর পিছে পিছে। কিন্তু আমাদের সদা প্রস্তুত থাকার দরকার ছিলো আমার অধিকার নিয়ে। রাষ্ট্রের যে স্তম্ভ থেকে দূর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম,স্বজনপৃতী চালু হবে সেখানেই আমাদের ঢাল হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আমরা সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ। আমরা জানিও না কোথায় কি হচ্ছে এবং কি হওয়ার কথা ছিলো।
বিশ্বিবদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর হওয়ার দরকার ছিলো বিচক্ষণ, ন্যায় পরায়ণ, সদা সত্যবাদী, প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব তো পাঠ্যবই পড়া আর শ্রেণিকক্ষে যাওয়া আশা না।
রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির নাগরিকের মস্তিষ্ক তো অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমার মস্তিষ্ক তো আমাকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। আমাকে বুঝতে হবে আমি আসলেই কি বুঝি কি বুঝি না। আমাকে এতটাই বিচক্ষণ হতে হবে যে, আমার আশেপাশের যে কোন ঘটনা কেন ঘটলো? কি কারণ ছিলো এই ঘটনার? কারা ঘটিয়েছে কি উদ্দেশ্য তার বিস্তর তথ্য থাকবে। সাধারণ মানুষ আমার থেকে এসে শুনে যাবে এবং তাতে তাদের উপকার হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার চিন্তা থাকবে সবসময় আর দশজন সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা। কারণ সরকার আমাকে টাকা দিয়ে পড়াচ্ছে বিনিময়ে আমাকে সমাজ, দেশ, এমনকি বিশ্বের জন্য কিছু রেখে যেতে হবে। জন্মগ্রহন করে পৃথিবীর আলো আর মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে নিতে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব এটা আমাদের উদ্দেশ্য হতে পারে না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিকের দায়িত্ব না।
সেদিন পরিচিত একজন উপাচার্য বলছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে একজন শিক্ষার্থী যদি অন্যায়, অবিচার, জুলুমের শিকার হয়ে প্রতিবাদ করতে না পারে তাহলে পরবর্তীতে সেই শিক্ষার্থী অথাৎ রাষ্ট্রের সেই প্রথম শ্রেণির নাগরিকের দ্বারা আর কোন স্থানে প্রতিবাদী হওয়া সম্ভব না। কর্মক্ষেত্রে যখন সেই ব্যক্তি কোন অন্যায়ের স্বীকার হবে সেই তখন আর প্রতিবাদ করতে পারবে না। রাষ্ট্রের কোন সম্পদ কেউ সামনে দিয়ে নিয়ে চলে গেলেও কিছু করার থাকবে না। কারণ সেই প্রথম শ্রেনির নাগরিক প্রতিবাদের ভাষা জানে না।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ করেই রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হয়ে যাব। আমাদের দায়িত্ব থাকবে পুরো দেশের এমনি বিশ্বের। তাই আমাদের এই প্রতিষ্ঠান থেকেই সব কিছু শিখে যেতে হবে। আমাদের রাষ্ট্র নায়ক ও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ও বিচক্ষণ ছিলেন।
আমাদের চিস্তা করতে হবে, আমাদের একসময় একটা পরিবারের সদস্য হিসেবে ভাবা হতো। তারপর ভাবা হলো আমি একজন পাড়ার, একটা গ্রামের, তারপর একটা থানা, জেলা, বিভাগ হয়ে সারাদেশের। যখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে বের হবো তখনই আপনাকে বা আমাকে ভাবা হবে আমরা পুরো বিশ্বের। তাই আমাদের তেমন সম্পদ হয়ে বের হতে হবে।
লেখক, শিক্ষার্থী
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023