May 20, 2024, 7:48 pm
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

“বাংলা বিভাগে পুতুলের বিয়ে “

দিলরুবা ইসলাম জিন্নাত
  • প্রকাশের সময় : Monday, March 13, 2023,
  • 18 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

‘পুতুলের বিয়ে ‘ শোনা মাত্রই কবি নজরুলের কথা হৃদয়ে ভাসে। পুতুলের বিয়ে নজরুলের একটি নাটিকা। যার মাধ্যমে নজরুল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। এছাড়াও বাংলার শিশুদের কে বাঙালির সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। ঠিক তেমনি একটি উদ্যমে পুতুলের বিয়ে কে শুধু পুস্তকে সীমাবদ্ধ না রেখে আজ বাস্তব রুপদান করেছে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যেগের মধ্যে দিয়ে তারা বাঙালির সংস্কৃতিকে রক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শিশু সমাজকে আধুনিক প্রযুক্তির নেতিবাচক আসক্তি থেকে বিরত থাকতে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

“চলনা সখী সবাই তোরা/ পুতুল খেলার ঘরে/ খেলবো খেলা সারা বেলা / রান্না -বাড়া করে।”

কবি মনির চৌধুরীর ‘পুতুলের বিয়ে’ কবিতার এই লাইনগুলোতে শিশুদের যে আবেগ, অনুভূতি বিদ্যমান রয়েছে তা বর্তমান সময়ের শিশুদের কাছে অলৌকিক এক বিষয়। অনেকেই আবার মাটির পুতুলও চিনে না। যুগের সাথে প্রযুক্তির প্রবহমানতার কারণেই এমনটা হয়েছে। বর্তমান সময়ের শিশুরা মোবাইল ফোনের বিভিন্ন কৃত্রিম গেম খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষতি বিনা কোনো প্রকার শারীরিক এবং মানসিক উন্নয়ন হচ্ছে না।
এক সময় পুতুল খেলার মধ্যে দিয়ে বাঙালি ছেলে -মেয়েরা সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় ধারণ করে বেড়ে উঠতো।যা বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বাংলা বিভাগ তৃতীয় ব্যাচের ফুলকুমারের সহিত নব-নালন্দা ব্যাচের সুকন্যার বিবাহ সম্পন্ন করেছে। কনের বাড়ীতে প্রবেশের সময় বরযাত্রী কে সুকন্যার সখীগণ গেটে ফিতা ধরে বরযাত্রীর কাছে টাকা দাবি করে। সখীদের ভাষ্যমতে টাকা না দিলে বউ দিবে না। এ সময় বরপক্ষের একজন প্রতিবাদ স্বরূপ বলেন, “আমার বউ আমি নিবো, গেটে কেন টাকা দিবো”। এভাবে ভাব বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে এক পর্যায়ে পুরো বিয়ের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। সনাতন এবং ইসলাম দুটি ধর্মের নিয়মানুসারে ফুলকুমার এবং সুকন্যার বিবাহ সম্পন্ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে যেহেতু একটি বিভাগে বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থী থাকেন তাই তাদের মধ্যে সপ্রীতির বন্ধন অটুট রাখা জরুরি।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার পুতুলের বিয়ে নাটিকাটির শেষে লিখেছেন,- ‘মোরা এক বৃন্তে দু’টি ফুল হিন্দু-মুসলমান, মুসলিম
তার নয়নমণি, হিন্দু তাহার প্রাণ……’

বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় অস্থিরতা একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো হচ্ছে, কোথাও মন্দির আবার কোথাও অমুসলিম কে হত্যা। কোনো ধর্মই অশান্তি, বিশৃঙ্খলা জোড়পূর্বক ধর্ম গ্রহণ করানোর নির্দেশ দেয়নি। সৃষ্টির সেবা করলেই যেহেতু স্রষ্টার সেবা করা হয় তাই আমাদের সবার উচিত আগে মানুষ হওয়া, মানুষ হয়ে মানুষের উপকারে আসা, পাশে দাড়ানো। ভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করাও একজন আদর্শ মানুষের মস্তিষ্কের প্রতিফলন। শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ তাদের পুতুলের বিয়ের মাধ্যমে সবার মধ্যে মানবিকতা বোধ এবং সম্প্রীতি জাগ্রত করার চেষ্টা করেছে।
শিক্ষার্থী
শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়,নেত্রকোনা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023