May 19, 2024, 11:57 pm
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

বকেয়ার টাকাটা দাও, এই গরিবের দিকে তাকাও’

মোঃ সোহাগ আলী/রাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : Tuesday, December 13, 2022,
  • 0 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রচলিত একটা প্রবাদ আছে যে, বাকির নাম ফাকি। প্রবাদটি নিয়ে বিতর্ক করা যেতেই পারে, কিন্তু এমনটাই ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ক্যান্টিন মলিকের সঙ্গে। শিক্ষার্থীদের বাকিতে খেতে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই ক্যান্টিন মালিক মো. শফিকুল ইসলাম। গত পাঁচ-ছয় মাসে শিক্ষার্থীরা ওনার ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে এক লাখ টাকার বেশি বকেয়া করেছেন। এসব শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

শফিকুল ইসলাম ক্যাম্পাসে শফি ভাই নামে পরিচিত। মঙ্গলবার আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘তাঁদের অনেকবার বলেছি, আমার অনেক ঋণ আছে। ঋণ শোধ করতে পারলে শান্তি পাবো। বকেয়ার টাকাটা দাও, এই গরিবের দিকে তাকাও। আমি তোমাদের সেবক। আমার বুকে লাথি মেরো না। তোমরা যদি আমাকে ভাত না দাও, তাহলে গুলি করে মেরে ফেলো।’

২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব পান শফিকুল ইসলাম। তখন থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছ থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা বাকিতে খেয়ে আর পরিশোধ করেননি বলে দাবি করেন তিনি। বাকিতে খাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী অভিযোগ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানকার ছাত্রলীগেরই ছেলেরা বাকি খেয়েছে। নন–পলিটিক্যাল ছেলে অল্প কয়েকটা হতে পারে। এখন আর পারছি না। তোমাদের কত টাকা বাকি দিতে হবে বলো। দেব আমি। কিন্তু তোমরা নিজেদের মতো করে বাকি খেয়ে টাকা পরিশোধ করছ না কেন, এটাই আমার কষ্ট।’

শফিকুল ইসলাম লেখাপড়া জানেন না। তাই কে কত টাকা বাকিতে খেয়েছেন, সেটা বলতে পারেন না। তবে বাকি লিখে রাখার জন্য তাঁর খাতা রয়েছে। তাতে কে কত টাকা বাকিতে খেয়েছেন, তা শিক্ষার্থীরাই লিখে রাখেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে তাঁর তিনটি খাতা পড়িয়েছেন। এতে গত পাঁচ-ছয় মাসে বাকি পেয়েছেন এক লাখ টাকার বেশি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন ধরে টাকা চেয়েও পাচ্ছেন না। পরে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁদের পরামর্শে তিনি ক্যান্টিনের কয়েক জায়গায় বাকি পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

নোটিশে লেখা রয়েছে, ‘বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। আমার চলতে কষ্ট হয়, আমাকে ক্যানটিন চালাতে সহযোগিতা করুন। বি.দ্র. বাকির খাতা পরিশোধ করুন। অনুরোধে, শফি ভাই।’

শফিকুল ইসলাম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা থেকে ১৯৭১ সালে মা–বাবার সঙ্গে রাজশাহীতে আসেন। বর্তমানে নগরের বিনোদপুর এলাকার মির্জাপুরে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে থাকেন। ছোটবেলা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় হয়েছেন। তিন বেলা ক্যান্টিন চালাতে পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মচারী রয়েছে। তাঁদের প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার টাকা পারিশ্রমিক দিতে হয়। তাঁর স্ত্রী ও ছেলেরা ক্যানটিনে সময় দেন। ক্যান্টিন চালিয়েই তাঁর সংসার চলে।

বিষাদজড়িত কণ্ঠে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে। বর্তমানে জিনিসপত্রের প্রচুর দাম। তবু ক্যানটিনে কোনো খাবারের দাম বাড়াইনি। সবাইকে নিয়েই বাঁচতে চাই। এমন যেন না হয় যে আমাকে শেষ করে দিয়ে বাঁচবে। তোমরা শিক্ষিত ছেলে, তোমাদের কাছে কি আমি ভাত পাব না? আমি বাঁচতে চাই। আমার বউ ছেলেপেলে আছে।’

এ বিষয়ে কথা হয় হলটির প্রাধ্যক্ষ সাইখুল ইসলাম ওরফে মামুন জিয়াদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্যান্টিনের বিষয়টি একান্তই তাঁর। তিনি কীভাবে ব্যবসা করবেন, বাকি দেবেন কি দেবেন না, এটা তাঁর দায়দায়িত্ব। এখানে হল প্রশাসন কোনো ভর্তুকি দেয় না। তাই কোনো হস্তক্ষেপও করে না।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই ক্যানটিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কাজ করছিলেন শফিকুল ইসলাম। বাইরে বেঞ্চে বসে কয়েকজন খাচ্ছিলেন। পরে ক্যাশ টেবিলের সামনে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘সত্যিই ভাই, খুব বিপদে আছি। যদি কিছু টাকা তুলে দেন।’

সেখানে বসে খাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, যাঁরা এখানে দলীয় পরিচয় ভাঙিয়ে বা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বাকি খাচ্ছেন, তাঁরা কাজটা ঠিক করছেন না। শফি ভাইকে আমরা চিনি। তিনি অনেক ছাত্রকে বলেন, ‘ভাই, তুমি খাও। টাকা পরে দিয়ো।’ কিন্তু মানুষগুলো তাঁর সঙ্গে বেইমানি করেছে।’

এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঙ্গে। তিনি বলেন, শফি ভাই তাঁদের কাছে এসেছিলেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, যেসব শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে বাকি খেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন। টাকা পরিশোধ করার ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন। তিনিই তাঁকে নোটিশ ঝোলানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023