May 21, 2024, 1:06 pm
শিরোনাম
জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল

সেশনজটে নাকাল রাবি শিক্ষার্থীরা

মোঃ সোহাগ আলী/রাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : Tuesday, December 13, 2022,
  • 0 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট বিভাগ রয়েছে একষট্টিটা। এরমধ্যে মাত্র পাঁচটি বিভাগ মোটামুটি সেশনজটমুক্ত রয়েছে। বাকি ছাপান্নটি বিভাগের অবস্থা খুবই হতাশাজনক। এই বিভাগগুলোর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায় তিন বছর শেষে এখনো তৃতীয় বর্ষেই উঠতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায়, এই সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সেশনজটের বিষয়টি স্বীকার করছেন। বিভাগ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার ঘাটতির পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সৃষ্টি হওয়া শিক্ষক সংকটকেও এটার পিছনে দায়ি করছেন তারা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে আগস্ট মাস থেকে। গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে ৩০ অক্টোবর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৩ নভেম্বর, ফলিত গণিত বিভাগের ১০ নভেম্বর এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৮ ডিসেম্বর থেকে।

অন্যদিকে, বাকি ছাপান্নটি বিভাগের অধিকাংশ বিভাগের ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এখনো দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস চলছে। কয়েকটি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে এবং কয়েকটিতে চূড়ান্ত পরীক্ষা শীঘ্রই শুরু হবে। এমনকি এমন বিভাগও রয়েছে, যে বিভাগের ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস এখনো শুরু হয়নি। এমতাবস্থায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন সেশনজটে ভোগা শিক্ষার্থীরা।

সেশনজটমুক্ত থাকার বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোহান ইসলাম নাহিদ বলেন, আমাদের বিভাগে সেশনজট না থাকার কারন হচ্ছে বিভাগের সভাপতি সহ সকল শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সময়মতো ক্লাস নেওয়া ও পরীক্ষা নেওয়ার সদিচ্ছা৷ এছাড়া, করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বিভাগকে গতিশীল রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা বিভাগে সেশনজট না থাকার বড় একটা কারণ।

অন্যদিকে চরম হতাশা প্রকাশ করে সেশনজটে ভোগা অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে দীর্ঘ দেড় বছরের যে সেশন জট সৃষ্টি হয়েছে, তা কমিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। এখনো প্রতিটা সেমিস্টার শেষ করতে ৬ মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু করে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এসে তৃতীয় সেমিস্টার এক্সাম দিচ্ছি। অর্থাৎ, ৩ বছরে শেষ হচ্ছে মাত্র তিনটা সেমিস্টার। যা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেশনজটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, সেশনজট আছে, এটা সত্য কথা। একটা সময় ছিলো, যখন চার বছরের প্রোগ্রাম শেষ হতে সাত-আট বছর লেগে যেতো। সে তুলনায়, এখন সেশনজট অনেক কমে গেছে। বর্তমানে পাঁচ বছরের প্রোগ্রাম শেষ হতে আনুমানিক ছয়-সাড়ে ছয় বছর লেগে যায়। সেশনজট হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছি। আবার নিয়োগ কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকায়, বর্তমানে কিছুটা শিক্ষক সংকটও রয়েছে। আমরা প্রশাসনিকভাবে সেশনজট কামিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তবে, রাতারাতিতো এটাকে জিরো লেভেলে আনা সম্ভব না।

পাঁচটি বিভাগ কিভাবে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে এগিয়ে গেলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত হওয়ায়, সেটার প্রভাবও কিছুটা রয়েছে এখানে। যে বিভাগগুলো এগিয়ে গেছে, তাদের হয়তো চেষ্টা ও আন্তরিকতা ছিলো বা তাদের অন্যান্য জটিলতাগুলো নেই। আর অন্যান্য বিভাগগুলো পিছিয়ে পড়ার পিছনে শিক্ষক স্বল্পতাও একটা কারণ হতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023