May 22, 2024, 6:19 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

আমি যদি রাজা হতাম

জুবায়ের জেমিন
  • প্রকাশের সময় : Thursday, April 8, 2021,
  • 19 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সকাল সকালই উঠে পড়লাম। রাজ দরবারে যেতে হবে যে! দরবারের সদস্যরা আমার অপেক্ষায় আছে। বাবার মৃত্যুর পর এই হরিনগর’র সব দারয়ত্ব যেন আমার কাঁধে চড়ে বসল।
তো বল মন্ত্রী, সব ঠিকঠাক আছে? প্রজারা আমার উপর সন্তুষ্ট তো? মন্ত্রী জানাল সবই ঠিকঠাক তবে আমার বাবা মহারাজের কিছু সিদ্ধান্ত সংস্কার করা দরকার। মহারাজের সব বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা থাকলেও শিশুদের নিয়ে তেমন কোন উদ্যোগ ছিল না।
তাইতো!

বিষয়টা আমাকেও চিন্তায় ফেলে দিল। শিশুরাই তো ভবিষ্যৎ। সবার আগে ভাবতে হবে ওদের পড়াশোনার ব্যাপারটা। সব শিশুদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে রাজ পন্ডিতকে নির্দেশ দিলাম। সব গ্রামে গ্রামে যেন বিদ্যালয় তোলা হয়। শিশুদের দিয়ে যেন ভারি কাজ না করানো হয় তাও দেখা দরকার। রাজসভা আজকের মতো শেষ করলাম।
সত্যিই শিশুদের ব্যাপারটা আমায় অনেক ভাবাল। রাতেও ঘুমাতে পারলাম না। গত বৎসর এক ইংরেজ সাহেবের সাথে বৈঠকে কথায় কথায় সে জানিয়েছিল বিদেশে নাকি সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় শিশুর শিক্ষা’র উপর কেননা তারাই তো দেশের পরবর্তী কর্ণধার।

বেশ কয়েকদিন এভাবেই কাটল। আজ রাজ দরবারে গেলাম, রাজ্যের খবরাখবর নিলাম। শেষে বিশেষ সভা ডাকলাম শিশুদের ব্যাপারটা নিয়ে। মন্ত্রী জানাল কিছু শিশু বিদ্যালয়ে আসলেও অনেকেই আসছে না। কারণ জানতে চাইলে বলল বিদ্যালয়ে যে খরচ দিতে হয় তা দিতে কনেকেই ব্যর্থ পাশাপাশি বেশ কিছু ছন্নছাড়া শিশু আছে যাদের বিদ্যালয় তো দূরে থাক তিন বেলা করে অন্ন আর থাকার জায়গা কোনটাই জোটে না। মন্ত্রী’র কথায় খুব একটা বিচলিত হলাম না কেননা আমি জানতাম এরকমটা হতে পারে তাই আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখে ছিলাম। মন্ত্রীকে বললাম, শোন মন্ত্রী; আমি এ’বিষয়ে ভেবে রেখেছি। চলো আমার সিদ্ধান্ত গুলো তোমাকে শোনানো যাক!

প্রাথমিক শিক্ষা পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করব। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ভাতা দেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ে খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। যাতে গরিব শিক্ষার্থীদের অন্ন কষ্ট না হয়।

কিছু নতুন বাজার ও দোকান করবো। এই দোকানের ভাড়া রাজ কোষাগারে জমা হবে এবং তা শিক্ষাখাতে ব্যয় হবে। যা দিয়ে ছন্নছাড়া শিক্ষার্থীদের সমস্ত মৌলিক চাহিদা মেটানো হবে।

কিছু বাড়তি ঘর তোলা হবে যাতে এই ছেলেমেয়েরা থাকবে ।

বিদেশি ও দেশি বৃহৎ ব্যবসায়ীদের কর বাড়িয়ে তা শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হবে।

খেলার জন্য মাঠ তোলা হবে।

শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না বরং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। একদিন আমার এই ছেলে-মেয়েরাই হবে বিনয়ী, চরিত্রবান, ন্যায়পরায়ণ, পরোপকারী তথা জগৎশ্রেষ্ঠ সন্তান।

বুঝলে মন্ত্রী, এই রাজ্য শুধু আমাদের একার না, আমাদের সবার। প্রতিটি জীবের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আরে আরে এ কি করছ মন্ত্রী! পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে হবে না। রাজ্যের রাজা হিসেবে একটু যদি করতে না পরি তবে পরজন্মে কি জবাব দিব!

পরিশিষ্টঃ আমি কোন রাজ্যের রাজা নই, ছিলামও না। শিশুদের জন্য কাজ করতে হলে যে আমাকে রাজাই হতে হবে এমনটা কিন্তু না। আর শিশুদের জন্য কি করতে হলে তা তিন’শ শব্দ না তিন হাজারেও লিখে শেষ করতে পারব না। আজন্ম বেঁচে থাকতে চাই ছোট্ট সোনামণিদের মাঝে।

জুবায়ের জেমিন
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ,বরিশাল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023