May 22, 2024, 9:06 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে বেরোবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

এ কে জায়ীদ-বেরোবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : Tuesday, October 11, 2022,
  • 2 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ছায়া সুনিবিড় ৭৫ একক বিশাল ক্যাম্পাস। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মনোরম। সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির বুকে দিগন্ত জোড়া মাঠ। আছে পড়ালেখার চাপ। কমতি নেই শিক্ষার্থীদের আড্ডার। গান বাজনার সঙ্গে পাখ-পাখালির কিচিরমিচির। মাঝে-মধ্যে ক্যাম্পাসে আওয়াজ ভাসে মিছিল-স্লোগানের। সবকিছু মিলিয়ে সারাক্ষণ প্রাণোচ্ছল ‘উত্তরের অক্সফোর্ড’ খ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়।৩০০ শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষক নিয়ে রংপুর শহরের ধাপ লালকুঠি এলাকায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলছে। ১২ অক্টোবর ১৫ বছরে পদার্পণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

১৪ বছরে পর হলেও একটু সম্পন্ন রূপ ফরে পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীরা এখনো পুরোপুরি ভাবে পাঠদান, আবাসন, শিক্ষক সংকট, রুম সংকট, প্রধাব ফটক, গবেষণা সহ বিভিন্ন ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। এখনো একটি ছাত্রী নিমাণ হয়নি এর নিমাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালে।

জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া জবা বলেনঃ ” মেয়েদের হল গুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্মাণ কাজ শেষ করার অনুরোধ রইল। হলের অভাবে অনেক মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করতে পারছে না। কারণ মেসে থাকতে মোটামুটি একটা ভালো মূল্য প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হয় যা সব পরিবারের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। ”

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র এমরান চৌধুরী আকাশ বলেনঃ ” ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই বৈশ্বিক মহামারীতেও অনলাইনে যাবতীয় ক্লাস পরিক্ষা সহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট মুক্ত হয়।শিক্ষার্থীরাও সেশনজট নামক ব্যাধির করালগ্রাস থেকে মুক্তি পায়।কিন্তু নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে উপেক্ষিত অবহেলিত এই নারী অগ্রদূত। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পেরিয়ে ১৪ বছরে পদার্পণ করলেও ক্যাম্পাসে নেই কোন তার প্রতিকৃতি কিংবা ম্যূরাল। সব বিভাগের বাধ্যতামূলক ভাবে রোকেয়া স্ট্যাডিস কোর্স চালু এবং দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হোক।”

মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট ছাত্র ফাতিহুল ইসলাম শোভন বলেনঃ ” আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশের চারটি গেট থাকলেও, নেই আকর্ষণীয় প্রধান ফটক। সাবেক ভিসি ড. কলিমউল্লাহ একটি প্রধান ফটক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলেও কাগজে-কলমেই আটকে আছে বাস্তবায়ন। এটা যেন দূত কাজ শুরু ও সম্পন্ন করা। সেশনজটমুক্ত করা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক চর্চাকেন্দ্র ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি সম্প্রসারণ করা হবে। এসব সমস্যা দূর করে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে বলে আমি আশাবাদী। ”

লোক প্রশাসন বিভাগ ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহেদা তাইয়্যেবা বলেনঃ “আমার তেমন চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। গাছপালা সকলের পছন্দনীয় একটি বিষয় আমার কাছেও ভালো লাগে।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রজাতির গাছ রয়েছে এটি একটি ভালোলাগা। আবার মাঝে মাঝে বিভিন্ন পাখি এবং প্রানীর ও দেখা মিলে। সার্বিক পরিবেশ যদি বলি তবে খুব সুন্দর পরিবেশ ঠান্ডা আবহাওয়া থাকে। একটি বিষয় একটু নজরে আনা প্রয়োজন যে মানসিক স্বাস্থ বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। কারন শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে অনেক হতাশায় নিমজ্জিত থাকে। কিছুদিন আগেও আত্নহত্যা ঘটনা ঘটেছে।আশা করবো কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কাজ করবে। ”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরাতুল জান্নাত ঊষা বলেনঃ “৭৫ একরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খুব একটা উপরের সারিতে খুঁজে পাওয়া যায়না। ঢাবির আকাশছোঁয়া খ্যাতি কিংবা জাবির মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য্যের সাথে পাল্লা দিতে না পারলেও, দেবদারু,কৃষ্ণচূড়া বা বকুলতলা রোডের অভ্যর্থনায় দিন শুরু করে,ক্লাসের খাটুনি শেষে সেন্ট্রাল মাঠ কিংবা বিভিন্ন চত্বরে আড্ডা দিয়ে “উত্তরের অক্সফোর্ড “-এ আমরা কিন্তু ভালোই আছি। ১৫ বছরের অর্জন কতটুকু থেকে বেশি প্রাধান্য পায়, আমরা নবীনরা কি কি অসুবিধায় আছি। নবীন এসে হলে সিট না থাকার কারণে হলে থাকতে পারিনা। ” অর্থায়ন” শব্দটাই যেহেতু বেশি আসে, সঠিক ব্যবস্থাপনা খুব বেশি দরকার।

ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী সু-দেব বলেনঃ ” আমাদের বিশ্ববিদ্যালেয়ে পর্যাপ্ত উন্নয়নের শিক্ষক নেই। অন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে শিক্ষক নিয়ে এসে ক্লাস করতে হয়। আমাদেরকে প্রতিটি বিভাগে যেন প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিযোগ দেওয়া হয়।” পাশা আমরা রুম সংকটে আছি, আমরা যখন ৪টি ব্যাচ এক সাথে ক্লাস করতে পারি না। এই জন্যে সাপ্তাহে ৫ দিন ক্লাস করে পার নি না। ক্লাস হলেও সেটা বিকাল ৪

ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী কানিজ ফারহানা মুভা বলেনঃ “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময়ের চেষ্টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন মিলেছে দীর্ঘ সেশন জট সমস্যার সমাধান ঠিক তেমনি হয়ে উঠেছে সকলের আস্হার প্রতীক। অনেক দূর দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পাড়ি জমাচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সকলের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেলেনি দীর্ঘ আবাসন সমস্যার সমাধান। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্টিন সুবিধা থাকলেও সেখানের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সবকিছুর মূল্য তাদের মান অনুযায়ী অধিক। ফলে শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য বাইরে হোটেল গুলোর আশ্রয় নিতে হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023