May 19, 2024, 11:34 pm
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আজ নির্মহ যন্ত্রণার নাম

খাজা আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : Wednesday, October 5, 2022,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নয়া উপনিবেশবাদী আগ্রাসনের বিভিন্ন দিকের অন্যতম হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে বোঝায় কোন সংস্কৃতিকে জোর করে গ্রাস, নিয়ন্ত্রন বা ধ্বংস করা। কোন একটি দেশের একক সংস্কৃতি যখন অন্যান্য সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় এবং অন্য সংস্কৃতির স্থান যখন সেই সংস্কৃতি নিয়ে নেয় তখন আমরা একে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে পারি।

যেকোনো সভ্য সাংস্কৃতির জন্যই, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, সামরিক আগ্রাসনের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতিকর এবং ভয়াবহ। সামরিক আগ্রাসনে জাতি তার স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড হারায়, কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে জাতি স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড হারানোর পাশাপাশি নিজস্ব পরিচিতি ও হারিয়ে ফেলে।

বর্তমান যুগকে বলা হয় আধুনিক ও বিশ্বায়নের যুগ। বিশ্বায়নের এ যুগে সারা পৃথিবী এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। সমাজসভ্যতার অনেক বিকাশ ঘটেছে। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিচর্চার ক্ষেত্র অনেক প্রসারিত হয়েছে। অজানাকে জানার অনেক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বিজ্ঞান তথা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বা অবাধ তথ্যপ্রবাহের বদৌলতে। অর্থাৎ একটা স্মার্টফোনের মধ্যে বা একটি আঙুলের খোঁচায় গুগল সার্চ করলে সবই নখদর্পণে এসে যায়। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই পৃথিবীকে আয়ত্ত করছে। বিজ্ঞানের এ অভূতপূর্ব সাফল্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনাবিল প্রশান্তি যেমন এনে দিয়েছে, তেমনি এ প্রযুক্তি মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো এবং নৈতিকতাকে দিন দিন অন্ধকারের অতলগহ্বরে তলিয়ে দিচ্ছে। বিজাতীয় অপসংস্কৃতির তাণ্ডবলীলায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ। প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ফলে বিশ্বায়নের এই যুগে হুমকির মুখে পড়েছে সমাজব্যবস্থা ও পরিবার।আর এ সবের পেছনে অদৃশ্য শক্তি যোগাচ্ছে সংস্কৃতিক আগ্রাসী মনভাব। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আজ নির্মহ যন্ত্রনায় রুপ নিয়েছে।

পশ্চিমা ও ভারতীয় সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতি আজ হুমকির মুখে! গণমাধ্যম থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র ভার্চুয়াল মিডিয়া, সংগীত এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজাতীয় সংস্কৃতির আধিপত্য প্রচার করছে। ভারতীয় সিরিয়ালের ভয়াল থাবা যেন পুরো দেশকে গ্রাস করে ফেলেছে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই বাড়ছে ভারতীয় সিরিয়াল দেখার আসক্তি। বিশেষ করে এ নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন নারীরা। আর তাদের সঙ্গে থাকা শিশুরাও অনেক ক্ষেত্রে এসব সিরিয়ালের ভক্ত হয়ে উঠছে। স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা, জি টিভি, সনি এসব চ্যানেল যেন এখন রমণীদের কাছে নিত্যদিনের কাজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সব আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন যদি আমরা রোধ করতে না পারি, তাহলে হারাতে হবে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। হারাতে হবে জাতি হিসেবে আমাদের স্বাতন্ত্র্যতা, হারাতে হবে আত্মপরিচয়।
সভ্যতার সংঘাত বা Class Of Civilization বহু প্রাচীনকালের। এ সংঘাতের মূলে রয়েছে সংস্কৃতির আধিপত্যের লড়াই। ইতিহাসের বলি হয়ে অনেক দেশ ও সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে তা আমাদের কাছে স্পষ্টত জানা। ভারতীয় ও পশ্চিমা সংস্কৃতির আধিপত্য বিস্তার রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশও চরম সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনই যদি এ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধ করা না যায়, তবে লাল-সবুজ পতাকার স্বাধীনভাবে ওড়ার শক্তি হ্রাস পাবে। নিজের ঘরে বসে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কালো থাবা বিস্তারই যথেষ্ট। আমাদের এই অবস্থার দ্রুততম পরিবর্তন কিংবা আগ্রাসী মনভাবাপন্ন সাংস্কৃতিকে বিদায় দেওয়া একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে নতুবা আত্মপরিচয়হীন এক সাংস্কৃতি আমাদের নিকট ভবিষ্যতে বহন করে বেড়াতে হবে কোনো বাক্যবিনিময় ছাড়া। অবশ্যই আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য।

লেখকঃ মানবাধিকার কর্মী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

One thought on "সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আজ নির্মহ যন্ত্রণার নাম"

  1. আহমেদ says:

    ধন্যবাদ সতত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023