July 24, 2024, 6:57 pm
শিরোনাম
পবিপ্রবির বয়কটকৃত ছাত্রলীগ নেতার ক্ষমাপ্রার্থনা হাবিয়া দোজখে পরিণত হয়েছে কুমিল্লা’র শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যকার সংঘর্ষ ছাত্রলীগকে জাবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষনা করার দাবি শিক্ষকদের কুবি ক্যাম্পাসে গভীর রাতে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগের হামলার আশংকা আহত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা কুবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের যশোরে অবরোধ, বেনাপোলের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বন্ধ কুমিল্লায় পুলিশের গুলিতে আহত ২ স্কুল শিক্ষার্থী জাবিতে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় শিক্ষকদের তোপের মুখে উপাচার্য ছাত্রলীগের দেয়া তালা ভেঙে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর আন্দোলনকারীদের দখলে রাবি, ক্যাম্পাস ছাড়া ছাত্রলীগ

বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও বর্তমান রূপরেখা

সামিউল ইসলাম অন্তর
  • প্রকাশের সময় : Saturday, September 10, 2022,
  • 11 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সর্বস্তরে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। যার আশীর্বাদে চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব মানুষের জীবনের ঝুঁকিসমূহকে অনেকাংশেই হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে, তাদেরকে নতুনভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে। ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন পূর্বের তুলনায় বেশ সহজতর ও সম্ভাবনাময় হিসেবে রূপলাভ করেছে।

এই মহান পেশায় নিযুক্ত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সর্বাত্মক ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা হাজারও প্রাণকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়। তবে এদের বিপরীতে আরেকটি শ্রেণীর উৎপাত বেশ বেড়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে প্রতারণার ফাঁদ। সাধারণ মানুষদের কাছে থেকে চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের অর্থ-সম্পদ। শত শত পরিবারকে হতাশায় নিমজ্জিত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করছে না তারা।

বিভিন্ন মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম। আর এই মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে সর্বমহলে একের পর এক কার্যকরী পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে এবং হচ্ছে। সরকারি সহায়তায় রূপলাভ করেছে অনেক চিকিৎসাকেন্দ্র। তবে এর বাইরেও আজকাল উল্লেখযোগ্য হারে গড়ে উঠেছে শত শত বেসরকারি হাসপাতাল, হোক গ্রামে কিংবা শহরতলিতে। গড়ে ওঠা এসকল চিকিৎসাকেন্দ্রের অধিকাংশই পরিচালিত হচ্ছে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক ও পরিচালকদের মাধ্যমে, যাদের নেই কোন প্রমাণযোগ্য সনদ বা সঠিক অভিজ্ঞতা। গণমাধ্যমে এমন অনেক চিকিৎসক ও চিকিৎসাকেন্দ্রের বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তাদের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় নিয়মিতভাবে এদের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। তাদের চাহিদার যোগান দিতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এরকম আরও অনেকে, যারা এখনও আমাদের নজরের আড়ালেই পড়ে আছে। তারপরও সেই চক্রটি তাদের প্রতারণার পরিধি ক্রমশ বাড়িয়েই চলেছে। সর্বস্তরের মানুষ এরকম ভোগান্তির সম্মুখীন হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতির চরম শিকার হয়েছে দরিদ্র মানুষেরা, তাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে প্রায়ই।

এমনও দরিদ্র পরিবার আছে, যারা প্রয়োজনমাফিক অত্যাবশ্যকীয় চাহিদাটুকু মেটাতে অক্ষম। তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে স্বল্প পুঁজিতে কোথায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবে- এটা নিয়ে তাদের ভাবনার যেন কমতি নেই। তথাপি সঠিকভাবে বুঝে উঠতে না পেরে একসময় তারা প্রতারণার খপ্পরে পড়ে যায়। শুধু আর্থিকভাবেই যে সাধারণ মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, এমনটা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে অনেককেই, মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানাবিধ জটিলতার। আর সেই জটিলতা কাটিয়ে উঠতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এতেই শেষ নয়। আরও বেশ কিছু সমস্যা লক্ষ্য করা যায়, যা ইদানিং উদ্বেগের কারণ হিসেবে পরিগনিত হয়েছে। বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্মরত যেসকল চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন, তাদের যোগ্যতার বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়োগের বেলায় তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না বলে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে গেছে। এর দায়ভার পতিত হচ্ছে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনদের উপর।

ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করে ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপত্র তৈরীর মাধ্যমে তাদের মধ্যে আশঙ্কার জন্ম দেওয়া আজ নতুন কিছু নয়। সর্বোপরি এমনটাও ঘটতে দেখা যায় যে, তাদের দায়িত্বহীনতা, অসচেতনতা ও সীমাবদ্ধ অভিজ্ঞতা একজন মানুষের জীবনের ইতি টানতে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। এভাবে সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীগুলো সমাজে এক বিশেষ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, যা যেকোন একটি সমাজের কল্যাণ বয়ে আনার ঊর্ধ্বে।

সাধারণত চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশগুলোর জন্য প্রয়োজন আলাদা আলাদা স্পেশালিষ্ট। তবে এর ব্যত্যয় ঘটছে নিয়মিত। পর্যাপ্ত লোকবলের সংকট থাকায় একজনের অধীনে একাধিক দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এরকম চিত্রও ফুটে উঠেছে সামাজিক গণমাধ্যমগুলোর সুবাদে। একজনের পক্ষে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এরকম পরিস্থিতির আলোকে প্রাপ্ত ফলাফল কতটুকু নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য হবে, হিসেব করতে গেলে গড়মিল থেকেই যায়!

এরকম প্রতিকূল ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ কারো একার নয়। সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে আসতে হবে সকলকেই। চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনরকম যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না থাকে, এদিকটা অতি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। যোগ্যতাসম্পন্ন ও নিষ্ঠাবানদের হাতে এরকম মহান দায়িত্ব হস্তান্তর করলে এরকম অসন্তোষজনক ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে। সর্বোচ্চ ইতিবাচক প্রভাব তখনই প্রতিফলিত হবে, যখন এ পেশায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের মানসিক পরিবর্তন সাধিত হবে।

নিজ পেশার প্রতি দায়িত্বশীল, যত্নবান ও মনোযোগী হলে সমস্যার একটা বড় একটা অংশের সমাধান মিলবে। এছাড়া যেসকল দালালশ্রেণী চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে চলেছে, অতি শীঘ্রই কঠোর শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা এরকম অসাধু কাজের সাহস হারিয়ে ফেলে। প্রসাশনিক পরিদর্শন এ ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে তাদের কার্যপ্রণালী চিহ্নিত করে চিকিৎসার চলমান ধারাকে ত্বরাহ্নিত করতে হবে।

একদল স্বার্থান্বেষী মহলের কুপ্রভাবে এই বিশেষ মৌলিক অধিকার যেন খর্ব না হয়, এখনও সেই পর্যাপ্ত সুযোগ আছে এর প্রতিকারের। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তারা নিজেদের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করতে থাকবে। আর মানুষকে প্রতারিত করতে থাকবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে।

চিকিৎসাব্যবস্থার সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রাকে অটুট রাখতে, প্রতিটি স্তরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উক্ত সমস্যাসমূহের দ্রুত সমাধান জরুরী। তাহলে অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনগুলোর ন্যায় এই প্রয়োজনটাও সহজলভ্য হবে। ফলস্বরূপ চিকিৎসা লাভের আশায় কোন পরিবারকেই আর প্রতারিত হতে হবে না, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরবে শত শত দরিদ্র পরিবার।

সামিউল ইসলাম অন্তর
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023