May 20, 2024, 7:00 pm
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

পবিপ্রবির প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির ২২ এ পদার্পণ

জান্নাতীন নাঈম জীবন
  • প্রকাশের সময় : Friday, July 8, 2022,
  • 2 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আজ ৮ই জুলাই। আজকের এইদিনে ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

পটুয়াখালী জেলা শহরের অদূরেই দুমকি উপজেলায় অবস্থিত পটুয়াখালী কৃষি কলেজ থেকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু।

সর্বপ্রথম কৃষি অনুষদ,কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং অনুষদ এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ৮ টি অনুষদে পাঠদান কর্মসূচি চলমান আছে।বাকিগুলো মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, এ্যানিমাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ, নিউট্রিশন এন্ড ফুড সায়েন্স অনুষদ এবং ল এন্ড ল্যান্ড এ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদ।এই ৮টি অনুষদের আওতায় ৯টি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ৮৯.৯৭ একর আয়তনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ে ৩৬৯১ জন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৪৫১ জন এবং পিএইচডি পর্যায়ে ২৪ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৫৩ জন শিক্ষক, ১৮৩ জন কর্মকর্তা ও ৫২৯ জন কর্মচারী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য ৫টি ছাত্র হল এবং ৩টি ছাত্রী হল রয়েছে।বর্তমানে প্রায় সাড়ে-চারশত কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দুইটি ১০তলা আবাসিক হল ও একটি ১০তলা একাডেমিক ভবন নির্মিত হবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও অবোকাঠামোগত ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। সমুদ্রভিত্তিক অথনৈতিক কার্যক্রম জোরদারকল্পে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ‘‘মেরিন সায়েন্স এন্ড রিসার্স ইনস্টিটিউট’’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ২০৪১ সালের ভিশন “উন্নত বাংলাদেশ” গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ক্যাম্পাসের সৌর্ন্দয। এর প্রকৃতির অপরূপ শোভা আর দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো যে কোনো মানুষকেই বিমোহিত করবে। এ ক্যাম্পাসে রয়েছে সারি সারি নারিকেল গাছসহ হরেক রকমের গাছ-গাছালি। ক্যাম্পাসের ভেতরে রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিজ হাতে রোপন করা একটি সুন্দর বকুল গাছ। রয়েছে কয়েকটি প্রশস্ত লেক যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছে। প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য ও মুর‌্যাল, ৭ বীরশ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্য ও ‘‘জয়বাংলা” নামে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ভাস্কর্য। ক্যাম্পাসটি দশর্নীয় স্থান হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পযর্টক ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ভিড় জমায়।

ক্যাম্পাসটি নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে পদার্পণ করছে গৌরবময় সাফল্যের ২২ বছরে। ২০০০ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণবঙ্গের জনগণের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় সাবেক পটুয়াখালী কৃষি কলেজের অবকাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বিজ্ঞানমুখী শিক্ষার প্রসার, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব প্রদানসহ গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উচ্চশিক্ষার যে বীজ রোপণ করেছিলেন তা আজ দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বেও আলো ছড়াচ্ছে। একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রযুক্তিশিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আধুনিক ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতোগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন তার মধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

এতকিছু প্রাপ্তির পরও রয়ে গেছে কিছু অপ্রাপ্তি। অবকাঠামোগতভাবে কিছুটা অনুন্নত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান। তাই রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা আজও উন্নয়নের মুখ দেখেনি।একটু বৃষ্টিতে চলাচল হয়ে যায় কষ্টসাধ্য।বহিরাগতদের অবাধ চলাচল শিক্ষার্থীদের সম্মুখীন করে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির।নেই কোনো উন্নত চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসাসেবা।সম্পূর্ণভাবে আবাসন ব্যবস্থা থাকা সত্বেও খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে গুণতে হয় বিশাল অঙ্কের টাকা,, যা একজন সাধারণ পরিবারের সন্তানের জন্য কষ্টকর।

তবে আজ এই আশাকরি সকল সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণতা পাবে,পৌঁছে যাবে দেশের সীমানা অতিক্রম করে বিশ্ব দরবারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023