May 19, 2024, 11:33 pm
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

শ্রেণিকক্ষ সংকটে রাবি’র ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

মোঃ সোহাগ আলী
  • প্রকাশের সময় : Saturday, June 4, 2022,
  • 0 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

তীব্র শ্রেণীকক্ষ সংকটে ভুগছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন দাঁড়িয়ে। অনেক সময় কোনো কোনো ব্যাচের ক্লাস নেয়াই সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির পর এ সংকট আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও মিলছে শুধুই আশ্বাস।

বিভাগটির শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬০০। একই সময়ে পাঁচটি ব্যাচের ক্লাস থাকে। কিন্তু বিভাগটির জন্য রয়েছে মাত্র ৩টি শ্রেণীকক্ষ। কক্ষগুলোও ছোট আকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ একাডেমিক ভবনের ৩০৫, ৪০৭ ও ৪০৮ নম্বর কক্ষ রয়েছে বিভাগটির ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য। একটি কক্ষে ৫০-৬০ জনের জনের বেশি শিক্ষার্থী বসতে কষ্টকর হয়ে যায়। সেখানে এক বেঞ্চে তারা ৫-৬ জন করে বসলেও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেককে। ফলে অনেকেই ক্লাস করতে পারেনা। আবার কোনো ব্যাচের পরীক্ষা থাকলে সেসময় অন্যদের ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।

এবিষয়ে কথা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় ১২০ জনের মতো শিক্ষার্থী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু সে তুলনায় বিভাগটির ক্লাসরুম খুবই কম। অনার্সের ৪টি ব্যাচ ও মাস্টার্সের ৩টি গ্রুপে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ০৩টি শ্রেণিকক্ষ। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। এরমধ্যে আবার ৪০৭ ও ৪০৮ নম্বর কক্ষ খুবই ছোট, যা অন্যান্য বিভাগের একটি কক্ষের সমান। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে ক্লাস রুমে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগে যেমন ব্যাঘাত ঘটে, তেমনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও অস্বস্তি বোধ করেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের খুব দ্রুতই নজর দেয়া উচিত।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নওসাজ জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অন্যতম একটি ডিপার্টমেন্ট ইসলামিক স্টাডিজ। যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রায় ৫৫০- ৬০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, শুধুমাত্র ০৩ টা শ্রেণিকক্ষে আমাদের ক্লাস করতে হয়। ক্লাস করার জন্য শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বেঞ্চ বসানোর জায়গা নেই বলে এক বেঞ্চে ৫ জন, কোনো বেঞ্চে ৬ জন করে বসতে হয়। তবুও জায়গা না পেয়ে অনেকে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। যেটি পাঠদানে বিব্রতকর পরিস্থিতির তৈরি করে এবং পড়াশুনার উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট করছে প্রতিনিয়ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে খুব দ্রুতই হস্তক্ষেপ করবেন বলে আমরা আশা করছি।

দ্বিতীয় বর্ষের শাপলা খাতুুন বলেন, ক্লাসরুম সংকটের কারণে মাঝে মধ্যেই এক সেমিস্টারের ক্লাস শেষ না হতে আরেক সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা দরজার সামনে অপেক্ষা করতে হয়, ক্লাসের সময় সূচি বার বার পরিবর্তন করতে হয়, কখনো কখনো ক্লাসটাই বন্ধ করতে হয়। এই সংকটের কারণে শিক্ষকরাও ক্লাস নিতে পারেন না। গাদাগাদি করে বসার কারণে ক্লাসের মনোযোগ নষ্ট হওয়াসহ ক্লাস নোট করা কষ্টদায়ক হয়ে যায়। ছাত্রবান্ধব প্রসাশন উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষ সংকটে ভুগছে। পাঁচটি ব্যাচে আমাদের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। একই সময়ে পাঁচটি ব্যাচের ক্লাস থাকে। তবে বিভাগটির জন্য রয়েছে মাত্র ৩টি শ্রেণীকক্ষ। কক্ষগুলোও ছোট আকারের। অন্য বিভাগগুলোর একটি কক্ষের সমান আমাদের দুইটি কক্ষ। একটি কক্ষে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বসতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে এক বেঞ্চে তারা ৫-৬ জন করে বসলেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেককে। ফলে অনেক সময় কারো কারো ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার কোনো ব্যাচের পরীক্ষা থাকলে সেসময় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয় অন্যদের। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির পর এ সংকট আরও প্রকট হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শ্রেণীকক্ষ সংকটের এবিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি। দুই উপ-উপাচার্যের সঙ্গেও কথা বলেছি। তবে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও মিলছে শুধুই আশ্বাস।

অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে আরও বলেন, আমাদের বিভাগে ২৩ জন শিক্ষকের জন্য রয়েছে মাত্র ০৭টি চেম্বার। যা অন্যান্য বিভাগের চেয়ে খুবই কম। আমাদের অনেক সিনিয়র শিক্ষক আছেন, যাদের কিছুদিন পর চাকরির মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। তাদের জন্যও কোনো চেম্বার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না।

শ্রেণীকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা এম. তারেক নূর বলেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ উপযুক্ত সময় প্রশাসনের কাছে ক্লাসরুমের জন্য আবেদন করতে পারতো। যখন আমরা সিরাজি ভবনের নতুন ব্লকের রুম বণ্টন করেছি, তখন তারা আবেদন করেননি কেন। তখন যে যে বিভাগ রুমসহ শিক্ষকদের চেম্বারের জন্য আবেদন করেছে, তাদের প্রত্যেককেই রুম দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন তারা যদি আবেদন করে তাহলে আমরা ক্লাসরুম দেয়ার বিষয়টি দেখব।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপ উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আমি কাজ করছি। তারাও আমাদের শিক্ষার্থী। আমি চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ ক্লাসরুমে ক্লাস করুক। তাদের ভোগান্তির এবিষয়টি নিয়ে আমরা কিছুদিনের মধ্যেই একটি মিটিং করব। সেখানে কোন কোন বিভাগের শ্রেণীকক্ষ সংকট আছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। অনেক বিভাগের শ্রেণীকক্ষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। এসব বিষয়ে আলোচনা করে আমরা শ্রেণীকক্ষ সংকটের বিষয়টি সমাধান করব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023