May 22, 2024, 8:56 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

শিক্ষণের আয়োজনে বিশ্ব হিজাব দিবস উদযাপন

আবু বকর সিদ্দিক শোয়েব
  • প্রকাশের সময় : Wednesday, February 2, 2022,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বিশ্ব হিজাব দিবস উদযাপনের দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে শিক্ষণের ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১ ফেব্রুয়ারি’২২ মঙ্গলবার শিক্ষণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফোরামের উদ্যোগে হিজাব উপহার, আলোচনা সভা, সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন ও নানান মতাবলম্বী নারীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরামের আয়োজনে বাড্ডা রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ছাত্রীদের নিয়ে হিজাব দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা এবং মজার কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হিজাব উপহার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষণের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আফরোজা জান্নাত, ঢাবি মুখপাত্র নাহিদা ফারজানা কলি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে শিক্ষণ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফোরামে কেন্দ্রীয় সচিব সাদিয়া কারিমুনের তত্তাবধানে ও দিক নির্দেশনায় ববি শাখার সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও নগরীর বেলজ পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যানে হিজাব সচেতনতা ক্যাম্পেইন, বিভিন্নজনের সাথে মতবিনিময় ও হিজাব বিতরণ কর্মসূচী পালন করা হয়। এতে আশা রশিদ খান, উম্মে হাফসা ও সাদিয়া বান্না সহ ববি আহ্বায়ক ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি পালন নিয়ে শিক্ষণ এর কেন্দ্রীয় ও শাখা নেতৃবৃন্দের মতামত চাওয়া হলে তারা বিভিন্ন আঙ্গিকে তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।

মতামত১ঃ হিজাব দিবস ও নারী স্বাধীনতা

নারী স্বাধীনতার প্রধানতম বিবেচ্য হলো, নারী তার নিজস্ব পরিমণ্ডলে এবং নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো নিজে নিতে পারবে।
এই বিবেচনায় নারীর হিজাব পড়া নারীর স্বাধীনতার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, নারী স্বাধীনতার ইস্যু নিয়ে বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো পশ্চিমারা নারীর পোষাক সংক্রান্ত এই বিষয়েই নারীর স্বাধীনতা স্বীকার করে না। ফ্রান্সসহ ইউরোপের একাধিক দেশে আইন করে হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যা আইন করে নারী স্বাধীনতা হরণ করার নামান্তর। আধুনিক বিশ্বে যা কল্পনার অযোগ্য অপরাধ।

ইউরোপের যেসব দেশে হিজাব আইনত নিষিদ্ধ না সেখানেও হিজাবকে এক ধরণের স্টেরিওটাইপ মনোভাবে দেখা হয়। হিজাব পড়াকে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হিজাব পরিহিতা নারীদের সমাজে আলাদা বর্গ হিসেবে তুলে ধরা হয়। যা নারীর স্বাধীন ইচ্ছাকে সামাজিকভাবে দমন করার একটি প্রক্রিয়া।

এই বাস্তবতায় হিজাব নারী স্বাধীনতার প্রতিক হিসেবে হাজির হয়েছে।

বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে নারীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়, যেখানে নারীর সাথে সহিংসতাকে ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ বলে গণ্য করা হয় এবং নারীর ক্ষমতায়নকে কেবলই নারীর বস্তুগত উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয় সেখানে হিজাব দিবসের ধারনার প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত বেশি।

শিক্ষণ সমাজসেবা এবং নারীর আত্মিক ও কর্মগত দক্ষতা উন্নয়নমূলক একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নারীর মনস্তত্ত্বে স্বাধীনতাহীনতার একধরণের প্রভাব লক্ষ্য করেছে। যা নারীর সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যহত করছে।

এই অনুধাবন থেকে শিক্ষণ নারীর মনস্তত্ত্বে স্বাধীনতার অনুভূতি জাগ্রত করতে নানা ধরণের কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় হিজাব দিবসকেও শিক্ষণ নারী স্বাধীনতার একটি উপলক্ষ্য আকারে গ্রহণ করেছে।

শিক্ষণ নারীর আত্মিক উন্নয়নে নারীর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সেই চাওয়া পূরণে হিজাব দিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে শিক্ষণ আশা করে।

আফরোজা জান্নাত আসকারী
আহবায়ক, শিক্ষণ

মতামত ২ঃ হিজাবে নারীর ঐক্য
এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দ ও গর্বের বিষয় যে, হিজাব দিবসের শুরু হয়েছে একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নারীর উদ্যোগে। এই দিবসের সূচনা করে নাজমা খান আমাদের মুসলিম মেয়েদের হিজাব নিয়ে যে সংগ্রাম আজও করে যেতে হয় তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। শিক্ষণ এর হিজাব দিবস ২০২২ আয়োজন শুধুমাত্র মুসলিম নারীদের শ্রদ্ধা জানানো না, হিজাবের প্রতি সম্মান জানানো অমুসলিম নারীদেরও স্বাগতম জানানো হচ্ছে। বিশ্বে ধর্মীয় পোশাক, জাতিগত কারণে বৈষম্যের ঘটনা অব্যাহত থাকার ফলে দিবসটি পালনের শুরু থেকে মুসলিম নারীরা ছাড়াও খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও হিজাব দিবস পালন করেন।হিজাববিরোধী মনোভাব পরিহার, ধর্ম ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নাহিদা ফারজানা কলি
যুগ্ম আহবায়ক, শিক্ষণ

মতামত ৩ঃ নারীর নিরাপত্তায় হিজাব সংস্কৃতি

একজন মুসলিম নারী হিসেবে হিজাবকে অপরিহার্য পোষাক বলেই মনে করি। ঘরের বাইরে গেলে হিজাব ছাড়া বেরোবো এমনটা এখন অসম্ভব অনেক মেয়ের কাছেই। অনেকেই এটাকে ধর্মীয় অনুভূতির যায়গা বলতে নারাজ হবেন, কেউ কেউ বলেন এটা নিতান্তই অভ্যেসজনিত। তবে এর কোনটাকেই অস্বীকার করা যায় না, দুটোই ব্যক্তিবিশেষে সত্য। এই দুইয়ের বাইরে গেলে হিজাব আমার কাছে শালীনতার প্রতীক। আমি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নারী নাজমা খানকে কৃতজ্ঞতা জানাই তার ২০১৩ সালে হিজাব দিবস পালনের সাহসী আহবানের জন্য। তিনি মুসলিম হলেও প্রথমে ৬৭ টি দেশের ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে নারীরা তার ডাকে সাড়া দিয়ে এই দিবস পালন করে। এতে মানব ধর্মের একতা এবং হিজাব সংক্রান্ত মূল্যবোধের গ্রহনযোগ্যতাই প্রকাশ পেয়েছে সুচারুরূপে। এরই ধারাবাহিকতায় হিজাব সংক্রান্ত নানা সম্মেলনসহ ২০১৪ সালে বাংলাদেশে হিজাব মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল নারী-পুরুষ সবাইকে শালীন পোশাক সম্পর্কে সচেতন করা ও ইসলামি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো। সামাজিক সংগঠন ‘শিক্ষণ’ এই মূল্যবোধের সাথে একাত্নতা প্রকাশ করে, নারী ও শিশুদের নিয়ে নানা ধরনের সেবামূলক কাজসহ বিভিন্ন আত্নীক উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এবছর বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্রীয় আহবায়ক ফোরাম ও শাখা ফোরামগুলো ‘হিজাব দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। নারীদের দ্বারা পরিচালিত এ সংগঠনটি হিজাবকে নারীর নিরাপত্তার প্রয়াস মনে করে। আরবি হিজাব শব্দটির অর্থ হল অন্তরায় বা আবরণ। ইসলামি শরিয়তে এর তাৎপর্য হল, নারীদের সৌন্দর্য মাহরাম বা পরপুরুষ থেকে আড়ালে রাখা এবং এদের সাথে অবাধ মেলা পরিহার করা মানেই হিজাব। মূলত ধর্ষণ, ব্যভিচার কিংবা অশ্লীলতা রোধে ইসলাম নারীকে এই নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এই অনিরাপদ প্রেক্ষাপটগুলো যেহেতু সকল নারীর ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে, তাই হিজাব হতে পারে সকল নারীর ভালবাসার পোষাক, অহংকার। হিজাব দিবসকে তাই সমাজে শালীন মূল্যবোধ অর্জনের উপায় বলেই মনে করি। ‘শিক্ষণ’ এর প্রতিটি সদস্য একই রংয়ের হিজাব পড়ে এবং অন্যকে হিজাব উপহার দেওয়া সহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের স্লোগানমূখর ফটোগ্রাফির মাধ্যমে হিজাব নিয়ে ইতিবাচক একটি মানববন্ধনের দ্বারা পুরো বিশ্বকে হিজাব প্রতিবন্ধকতা রক্ষায় এগিয়ে আসতে আহবান জানায়। নারীদের সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হিজাবের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

সাদিয়া কারিমুন
সচিব, কেন্দ্রীয় আহবায়ক ফোরাম, শিক্ষণ

মতামত ৪ঃ হিজাব ও নারী

‘হিজাব শুধু এক টুকরো কাপড়ই নয় যা দ্বারা আমি মাথা ঢাকবো। হিজাব বরং আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয় আমি কে।’
-নাজমা খান

২০১৩ সাল থেকে ‘হিজাব দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাজমা খান স্কুলে হিজাব পরে যাওয়ায় সহপাঠীদের কাছে নানাভাবে অপমানিত হন এবং তারই প্রতিবাদে তিনি মুসলমান নারীদের হিজাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বপ্রথম ‘হিজাব দিবস’পালনের পক্ষে প্রচারণা চালান। তারই ধারাবাহিকতায় পরে মুসলিম দেশগুলোতে এই দিবসটি পালনের প্রচলন শুরু হয়।

হিজাব নারীর সম্মান , হিজাব নারীর পবিত্রতা। হিজাব সৌন্দর্যের ভূষণ ও সম্ভ্রমের রক্ষাকবচ। এ হিজাবকে অনেকে দেখেন নারীদের অবদমন ও বিভাজন সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে। সেক্যুলারিজম প্রসার পাওয়া সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে হিজাব পরিহিত নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রুচির সাথে মানানসই অথচ মার্জিত ও শালীন পোশাক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় হিজাবের প্রতি রয়েছে নারীদের ব্যাপক সমর্থন ও আকর্ষণ।

‘শিক্ষন’ নারীদের নিয়ে স্বতন্ত্র ও স্বকীয় সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে পথ চলা শুরু করে নারী স্বাধীনতার, নারী মনস্তত্বে স্বাধীনতার অনুভূতি জাগ্রত করার লক্ষ্যে ‘হিজাব দিবস’কে গুরুত্বের নজরে দেখছে। এর মাধ্যমেই নারীর আত্নিক উন্নয়ন সম্ভব। হিজাব নারীর অধিকার ,হিজাব নারীর অহংকার।

সাদিয়া আক্তার
সচিব, শিক্ষন ববি আহবায়ক কমিটি

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023