May 22, 2024, 6:02 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বশরীরেই ক্লাস চান রাবি শিক্ষার্থীরা

সোহাগ আলি- রাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : Tuesday, January 18, 2022,
  • 1 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বাড়ছে করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যাও। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশ। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। ইতোমধ্যেই সশরীরে ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা দ্রুত বুস্টার ডোজ গ্রহণ করে সশরীরেই ক্লাস করতে চান।প্রশাসন বলছেন, তারা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিবেন। আপাতত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে দেওয়া নির্দেশনাগুলোর মধ্যে- সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা, ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এক ডোজ এবং বাকিদের বাধ্যতামূলক করোনার দুই ডোজ টিকা নেওয়া। শ্রেণিকক্ষে অবস্থানকালীন বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার, ওমিক্রন সংক্রমিত হলে দ্রুত হল প্রাধ্যক্ষ, সভাপতি অথবা রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে অবহিত করা, যেসকল শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেনি তাদের দ্রুত টিকা গ্রহণ করা। ক্যাম্পাসে জনসমাগম ও বহিরাগতের প্রবেশ না করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে মাস্ক ব্যবহার করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অন্যতম।

নতুন করে আবার লকডাউনের বিষয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কায়েস মাহমুদ বলেন, ‘প্রায় দেড় বছরের অধিক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, পড়াশোনায় সেশনজটসহ অনেক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ওমিক্রনের সংক্রমণ ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় আবার যদি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয় তাহলে আমাদের উপর যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয় না, এ দেশে পূর্ণ লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব। কারণ এর আগে যতবারই সরকার লকডাউন দিয়েছে, বিভিন্ন কারণে কোনোবারই সেটা সম্পূর্ণরুপে বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার উপরই বেশী জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করি।’

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বর্তমানে করোনার টিকা নিয়েছেন। আমাদের আবাসিক হলগুলোও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এখন। আর প্রকৌশল ও বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে কোনোভাবে ক্লাস হলেও ল্যাবের কাজ করা সম্ভব হয়না।
সব মিলিয়ে আমরা সকল বিধিনিষেধ মেনে এবং প্রয়োজনে বুস্টার ডোজ নিয়ে হলেও সশরীরে ক্লাসে অংশ নিতে চাই।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন ,’লকডাউন দিলে অনেকেই গতবারের মতো চাকরি হারাবে। অনেকের আয়-উপার্জন বন্ধ থাকবে কিছুদিন। শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে এবং অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যেতে পারে। তাই, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছুই খোলা রাখা উচিত বলে মনে করি।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার ব্যাপারে ১২ টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে বলা হয়েছে। আমরাও চাই না বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হোক। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে সশরীরের ক্লাস কতদিন চলবে। যদি সরকারের নির্দেশনা মতে বন্ধ করার মতো কোনো পরিস্থিতি হয় তখন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. তবিবুর রহমান শেখ বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টারে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড আছে। হঠাৎ কোন রোগীর অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন দিতে পারলেও পরবর্তী ধাপের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। মেডিকেল ইউনিট মূলত করোনা রোগীর সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা রাখবে। আমাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বিষয়টি গোপন রাখতে করোনা টেস্ট করাতে চায় না। তাই আমরা এটি বন্ধ করে দিয়েছি। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে আবার চালু করা হবে। আপাতত নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া হলগুলোতে আইসোলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023