May 21, 2024, 1:19 pm
শিরোনাম
জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল

এলপিজির নির্ধারিত দাম কাগজেই, বাজারে নেই

ট্রাস্ট ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : Tuesday, December 21, 2021,
  • 2 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয় জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বাজারে সেই দামে এলপিজি (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস) মিলছে না। সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর নতুন দর ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাজারে তার প্রভাব নেই। স্থানভেদে ২০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। দু-একটি জায়গায় ন্যায্য দামে মিলছে এলপিজি।

চলতি মাসের জন্য এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দর ১২২৮ টাকা। তবে গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১৩৫০ টাকায়ও কিনছে হচ্ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে যে দামে কেনা হয়, তার সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। ব্যবসায় টিকে থাকতেই দাম বেশি নিতে হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়েই দাম কমাতে হবে। না হলে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি সম্ভব নয়। দাম বেশির পাশাপাশি ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বিইআরসি বলছে, দেশজুড়ে বাজার তদারকির মতো জনবল তাদের নেই। তাই আইন নিয়ণন্ত্রকারী সংস্থা ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা অভিযান চালাতে পারেন।

আদালতের নির্দেশনায় ১২ জানুয়ারি গণশুনানি করে ১২ এপ্রিল এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয় বিইআরসি। এরপর প্রতি মাসেই আমদানি মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে কমিশন। লোকসানের অজুহাতে বিক্রেতারা নিজেদের মতো করেই এলপি গ্যাস বিক্রি করে যাচ্ছিল। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে নতুন করে সেপ্টেম্বরে আবার গণশুনানি হয়। এরপর অক্টোবরে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে কমিশন, যা বাজারের প্রচলিত দরের চেয়ে বেশি হয়। এতে ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ে। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর চলতি ডিসেম্বর মাসের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজি ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০২ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করে বিইআরসি। ফলে বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এক হাজার ৩১৩ টাকা থেকে কমে হয় ১ হাজার ২২৮ টাকা। এই দর ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দাম কার্যকরের দিনই (৩ ডিসেম্বর) পশ্চিম ধানমন্ডির বাসিন্দা জাহিদ দুটি খুচরা দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখেন ১২ কেজির সিলিন্ডার এক দোকানে চায় ১২২০ টাকা আরেক দোকানে ১২৫০ টাকা। গত কয়েক দিন ঢাকার মতিঝিল, মৌচাক, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১২ কেজির সিলিন্ডার এলাকাভেদে ১২৩০ থেকে ১২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যদিও চলতি মাসের দাম ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেছিলেন, এখন আমাদের নির্ধারিত দামে দেশের সব জায়গায় এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহী সমকালকে বলেন, তারা জেলা প্রশাসক, পুলিশ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্নিষ্টদের বাজার তদারকির জন্য চিঠি দিয়েছেন। কারণ পুরো দেশ দেখার মতো জনবল কমিশনের নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম সমকালকে বলেন, বিইআরসির ভূমিকাটা কাগজেই থাকছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ। অসাধু ব্যবসায়ীদের ঠেকাতে গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে কমিশনকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।

এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গোমূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। সরকারি একটি কোম্পানিসহ বর্তমানে দেশে এলপিজি আমদানি, মজুদ, বিতরণের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে ২৯টি প্রতিষ্ঠান। বার্ষিক এলপিজি ব্যবহারের পরিমাণ ১০ লাখ টন; যার ৯৮ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। ৩৮ লাখ গ্রাহকের জন্য সারাদেশে তিন হাজার পরিবেশক ও ৩৮ হাজার খুচরা বিক্রেতা রয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ১শ থেকে দেড়শ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর হালিমা নগর এলাকার ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বলেন, ১২ কেজির বসুন্ধরা ও বেক্সিমকোর সিলিন্ডার ১৩১০-১৩২০ টাকা এবং ওরিয়ন, বিএম ও ফ্রেশ কোম্পনির সিলিন্ডার রাখা হচ্ছে ১২৭০ টাকা। দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগে রানীরবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

যশোর অফিস জানায়, দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সিলিন্ডারপ্রতি ২৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যশোরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার সেলিম হোসেন বলেন, সরকার এলপিজির মূল্য বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু বাজারে এর প্রভাব নেই। সবাইকে বেশি দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কার্যকর করতে না পারলে এমন ঘোষণার দরকার কী?

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দাম কমানোর কোনো লক্ষণ নেই খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে। এ ছাড়া ১২ কেজির সিলিন্ডারে ১০ কেজি থেকে সাড়ে ১১ কেজি গ্যাস দেয়। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনা হবে।

খুলনা ব্যুরো জানায়, নগরীর আহসান আহমেদ সড়কের মুদি দোকান মক্কা এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা গেছে, সব কোম্পানির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ টাকা। হাজী মহসিন রোডের মুদি দোকান সততা এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, বসুন্ধরা কোম্পানির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৮০ টাকা। অন্যান্য কোম্পানির গ্যাস ১ হাজার ২৫০ টাকা। একই সড়কের আল মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও এলাহী মেডিসিন নামের দুই মুদি দোকানেও ১ হাজার ২৫০ টাকায় গ্যাস বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রাঙামাটি অফিস জানায়, শহরে বসুন্ধরা, বিএম ও ওমেরা এলপির ১২ কেজি সিলিন্ডার ১২৫০ টাকা এবং টোটাল ১২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামে বরিশালে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। অভিযোগ রয়েছে, ১২ কেজির সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া হয় ২-৩ কেজি কম।

বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়ায় গ্রামাঞ্চলে আগের দামেই এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। তবে শহরের ডিলাররা ১২ কেজির গ্যাস ৭০ টাকা কমিয়েছে।

রংপুর অফিস জানায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেশি নিচ্ছেন। এদিকে পরিবহনে ব্যবহূত এলপিজি লিটারপ্রতি ৫৭ দশমিক ৩৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। রংপুরে লিটারপ্রতি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023