May 20, 2024, 12:00 am
শিরোনাম
মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল জাবিতে ছাত্রলীগ সম্পাদকের বান্ধবীকে নিয়োগ দিতে তোড়জোড় যুক্তিতর্ক দেখে সবাই ভাবতো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছি : শাহ মনজুরুল হক ইবিতে মুজিব মুর‍্যালে এ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা নিবেদন  বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে জনগণের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে : আইজিপি ইবি অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসাইনের আত্মার মাগফিরাতে দোয়া মাহফিল কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের সভাপতি হলেন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী 

নিরাপদ পানি এখন বৈশ্বিক সংকট

সিফাত জামান মেঘলা
  • প্রকাশের সময় : Monday, November 1, 2021,
  • 19 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আমরা সবাই জানি যে,পৃথিবীর তিন ভাগ পানি আর এক ভাগ মাটি।তাই স্বাভাবিকভাবেই সবাই এটা ভাবে বসি যে,পানির কোনো অভাব নেই।
কিন্তু এত পানি থাকার পর ও পানির অভাব থেকে যায় এবং সেটা চরম পর্যায়ের।
হ্যাঁ, পানির অভাব নেই কিন্তু নিরাপদ পানির চরম অভাব। বলা হয়,তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি হয়,তবে সেটা হবে নিরাপদ পানি নিয়ে।
আর এটা আমরা বুঝতে পারি,যখন ১ লিটার পানি কিনতে গুনতে হয় ত্রিশ টাকা।

পানি ছাড়া কোনো জীব ই বঁচতে পারে না।তাই পানির অপর নাম জীবন।

পানির সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। যতোই দিন যাচ্ছে এ সংকট আরো তীব্র হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে এ সংকট। বিশ্বের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী পানি সংকটে মধ্যে রয়েছে।

আর সুপেয় পানির সংকটে রয়েছে
৭৬ কোটিরও বেশি মানুষ। তাই সুপেয় পানির অধিকার রক্ষা করা আজ জরুরি। না হলে সংকটাপন্ন এলাকাগুলো আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭ টি অভিষ্ঠের মধ্যে ৬ নাম্বার নিরাপদ পানি নিয়ে,যা ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে।এর জন্য ১৩৫ বিলিয়ন খরচ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব ব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ও ইইউনিসেফ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ৯৮ ভাগ মানুষ পানির আওতায় আছে কিন্তু সব পানি পানযোগ্য নিরাপদ পানি না।৫৮ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানযোগ্য পানি পাচ্ছে।বাকিরা যা পাচ্ছে তা নিরাপদ পানি নয়।

নিরাপদ পানির অধিকারবঞ্চিত এই বিপুল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই আবার চরম দরিদ্র। প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বাস করে গ্রামে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে নারী ও শিশুরা। এশিয়া ও আফ্রিকার নিরাপদ পানির সংকট ভয়াবহ।
ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রতিদিন মৃত্যু বরণ করে হাজারো মানুষ। এদের অধিকাংশই আবার শিশু।

ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে সুপেয় পানির সুযোগবঞ্চিত জনসংখ্যার দিক দিয়ে আমাদের অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। অথচ ধান-নদী-খালের দেশে বাংলাদেশ। কিন্তু মানুষের বিভিন্ন পরিবেশ বিপন্নকারী কাজের ফলে সব আজ মরতে বসেছে।

★ কেন পানির উৎসগুলো নিরাপদ নয়?

প্রতিবেদনগুলোতে সুপেয় পানির হিসাব করা হয়েছে উৎস বিবেচনা করে।কিন্তু এসব উৎসগুলো এখন দূষিত হয়ে পড়ছে।
দেশের ১০ ভাগ পানির উৎসে গ্রহণযোগ্য মাত্রার বেশি পরিমাণ আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে কারো কারো মতে তা ২৬ ভাগের বেশি।

বিশ্ব ব্যাংক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইপ লাইনের পানিতে ৮০ শতাংশ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া রয়েছে।পুকুরের পানিতেও একই মাত্রার ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।এবং ০৮ শতাংশ টিউবলেয়ের পানিতে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।যা পাকস্থলিতে প্রদাহ ঘটায়।

ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর এক প্রতিবেদনে বলা হয় ,’ ঢাকা ওয়াসা ‘যে পানি সরবরাহ করে তার ৯০ শতাংশ পানি গ্রাহককে বিভিন্ন উপায়ে পানের যোগ্য করে তোলা হয়।এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহক তা ফুটিয়ে পানের যোগ্য করে তোলেন।এর ফলে প্রতিবছর ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হয়।৫১ শতাংশ মানুষ পানিকে অপরিষ্কার ও ৪১ শতাংশ মানুষ পানিতে দুর্গন্ধ পান।
ওয়াসার পানি না ফুটিয়ে পান করা যায় না।এতে অনেক দুর্গন্ধ থাকে।এই পানি পানতে গোসল করলে শরীর চুলকায়।

এই পানি পান করলে পেটে পীরা হয়,বমি বমি ভাব হয়।বাচ্চাদের পানের অযোগ্য এই পানি।

★পানি নিয়ে বৈষম্য ঃ

ঢাকা শহরে যেমন বস্তিবাসি বা নিম্নমধ্যবিত্তদের সাথে উচ্চবিত্তদের পানি বৈষম্য হয় তেমন শহর ও গ্রামের মানুষ এর মধ্যে পানি নিয়ে বৈষম্য করা হয়।
সরকারের বরাদ্দের ৮০ ভাগ শহরের মানুষের জন্য এবং বাকি ২০ ভাগ গ্রামের মানুষের পানি সরবরাহে ব্যবহার করা হয়।

শহরের ৮৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানক পেয়েও গ্রামের ৭১ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে।উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার জ্ন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা দিনদিন কমে যাচ্ছে।এর শিকার হচ্ছে মূলত গরিব মানুষ।

দেখা যাচ্ছে শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পেলেও নিম্নবিত্তমানুষের ৩৬ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে।
এতে বোঝা যাচ্ছে যে নিরাপদ পানি নিয়ে কি পরিমাণ বৈষম্য হচ্ছে।

★পানি নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালাঃ

পানি বিষায়ক আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ এর অভাব এর সুষ্ঠু বাস্তব সম্মত প্রয়োগ হচ্ছে না।

দেখা যায় এলিট শ্রেণিত মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি অপচয় করছে।
পানির ট্যাপ ছেড়ে রাখছে,অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করছে।
কারণ ছাড়া পানি নস্ট করছে।
এতে করে নিম্ন বা মধ্যবিত্ত মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না।

এমন যদি কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণায়ন করা হয় যাতে কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার বা অপচয় করলে তাকে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনা হবে। এবং সর্বপরি সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সবাই সবার স্থান থেকে সচেতন হলে, সবাই নিরাপদ পানি পাবে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে।

আমাদের একটি পানি অধিকার বিষয়ক আইন রয়েছে। এ আইনে সুপেয় পানি এবং পরিচ্ছন্নতা ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য ব্যবহার্য পানি অধিকার হিসেবে বিবেচিত। পানির অধিকার যেমন সবারই রয়েছে তেমনি পানির অপচয় ও অপব্যবহার রোধ করা সবারই দায়িত্ব। কিন্তু পানির ‍অধিকার আইন দিয়ে রক্ষা করা যায়না। প্রথমে চাই পানির সরবরাহ। এর পর অধিকারের প্রশ্ন। তাই পানি প্রাপ্তির বিষয়ে আমাদের ভূমিকা পালন করতে হবে। আসলে এখানে অধিকারের আগে দায়িত্বের বিষয়টিই চলে আসে।

সংবিধানের ১১নাম্বার অনুচ্ছেদে উন্নত জীবন যাত্রার মান নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে ৷ জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ হয় পর্যাপ্ত পানি পায় না। বলা হচ্ছে, আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ ৯শ’ ৩০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭শ’ কোটিই পানির সমস্যায় পড়বেন। কাজেই এ সমস্যা মোকাবেলা করতে হলে পানির অপচয় রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কাজেই সবার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা সরকারের কর্তব্য। যেখানে পানির সংকট বেশি, সেখানে দ্রুত বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল স্থাপন করতে হবে। এছাড়া সাপ্লাই পানির উৎসগুলো স্বাস্থ্যসম্মত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সবার জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত হোক, এটাই প্রত্যাশা। সকলস্থরের জনগণকে পানির অপচয় রোধে সচেতন করে তুলতে হবে।

শিক্ষার্থী
আইন বিভাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023