May 22, 2024, 9:44 pm
শিরোনাম
বেরোবি ফিল্ম এন্ড আর্ট সোসাইটির নেতৃত্বে সোয়েব ও অর্ণব ইবি রোভার স্কাউটের বার্ষিক তাবুঁবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান শুরু সেভেন স্টার বাস কাউন্টারের কর্মীদের হামলার শিকার পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা, আহত ৫ শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলো নোবিপ্রবিসাস ইবি ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাবিতে কুরআনের অনুবাদ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে দেশটা: বিএনপি মহাসচিব ‘চ্যারিটি ফান্ড কেইউ’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু পবিপ্রবিতে বিশ্বকবির ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন একজন আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা : অ্যাটর্নি জেনারেল

বন্যা কবলিত অসহায় মানুষদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা।

তৌহিদা আকতার
  • প্রকাশের সময় : Sunday, August 15, 2021,
  • 3 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রকৃতির রূপসী কন্যা আমাদের বাংলাদেশ। এই প্রকৃতি আবার কখনো কখনো হাজির হয় তার রণচণ্ডী রূপ নিয়ে। প্রকৃতির এই রুদ্র মূর্তিকে আমরা বলি প্রাকৃতিক দূর্যোগ। প্রতিবছরই বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়। অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগের মতো বন্যাও একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ। ভৌগোলিক এবং ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারনেই বন্যা যেন এদেশের নিত্যসঙ্গী। বর্তমান করোনা মহামারির কারণে সারাদেশে চলছে লকডাউন। মানুষ পরিচালিত করছে চাকুরীহীন, কর্মহীন জীবন। ফুরিয়ে আসছে মধ্যবিত্তের সন্ঞ্চয়, অতিকষ্টে দিন পার করছে খেটে খাওয়া মানুষ। তার উপর বেশ কিছুদিন ধরে টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। মানুষ হয়ে পড়েছে অসহায়, যেন থেমে গেছে তাদের জীবনচলার গতি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব অসহায় মানুষদের নিয়ে কি ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা? এমন মতামত জানতে চেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী – তৌহিদা আকতার।

বন্যায় অসহায় মানুষদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ইস্রাফিল রনি

বন্যা বাংলাদেশের নিত্য নৈমিত্তিক একটি ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিবছরই এদেশের উপকূলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চল বন্যায় ভেসে যায়, প্রাণহানি ঘটে অসংখ্য মানুষের। তবে বিগত সময় গুলোতে দেখা গিয়েছে যত মানুষ বন্যার পানিতে ডুবে মারা গিয়েছে তার থেকে বেশি সংখ্যক মরেছে ক্ষুধায়, অনাহারে, পানি বাহিত বিভিন্ন রোগে এবং চিকিৎসা হীনতায়। তাই জলাবদ্ধতায় এবং পানিতে নিমজ্জিত অসহায় মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো শ্রেনী পেশা নির্বিশেষে সকলের পবিত্র দায়িত্ব।
একটি মানুষ জন্মের সাথে সাথে যে সকল অধিকার নিয়ে আসে তার অন্যতম হলো বেঁচে থাকার অধিকার। সভ্য রাষ্ট্রগুলো এ অধিকারকে সাংবিধানিক আইন দ্বারা বলবৎ অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই বন্যা কবলিত অসহায় মানুষদের জীবন রক্ষার অধিকার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বেসরকারি এবং সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। বন্যা কবলিত অসহায় মানুষদের জন্য আরো টেকশই আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। এ সময়ে করনীয় এবং বর্জনীয় কাজ সম্বন্ধে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ এবং গবাদি পশু গুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া যেতে পারে। তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং পানির ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যার কবলে যারা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি বন্যার ক্ষয়ক্ষতির স্থায়ী সমাধানের জন্য বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সরকারকে সচেষ্ট হওয়া উচিত।

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনজীবন ও কৃষিখাতকে বাঁচাতে হবে।
নিশাত তাসনিম রিফা

গাঙ্গেয় বদ্বীপ বাংলাদেশ,যার বর্ষার আগমনী বার্তা মানেই দুর্যোগের সংকেত। বর্ষার ভারি বর্ষনে প্লাবিত হয় মাঠ-ঘাট। যার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অন্যান্য দুর্যোগের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। আমাদের দেশে প্রতি বছর মোট ভূখন্ডের প্রায় ১৮ শতাংশ বন্যায় প্লাবিত হয়।বন্যার সবচেয়ে বড় কারণ হল, নদী সমূহের ভরাট এবং উজানে নদীগুলোর অস্বাভাবিক ব্যবহার। বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নেই সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে করোনা মহামারির প্রকোপের সাথে বন্যা দুর্যোগ সামাল দেয়া বড় ধরনের চ্যালেন্ঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। বিষণভাবে বিপর্যস্ত গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিখাত। মানবেতর জীবন-যাপন করছে অসহায় মানুষগুলো। অনেকে আশ্রয় সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে নিদারুণ কষ্টে। তাদের জন্য সরকারি ত্রাণের ব্যবস্থা থাকলেও তা সঠিকভাবে বন্ঠিত হচ্ছে না কিংবা চাহিদা অনুযায়ী তা অতি সামান্য। দুর্নীতি তো আছেই প্রতিটি ক্ষেত্রে। বন্যা আমাদের সাংবাৎসরিক সমস্যা, কিন্তু বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে দেখা যায় না।বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখতে, বন্যার পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনায় বনায়ন সৃষ্টি এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পানি উপচে পড়া রোধ করতে হবে। বন্যায় জনজীবন ও কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রনয়নে এই বিষয়টি আরো অধিক গুরুত্ব দেয়া জরুরি। সবিশেষ, সরকার ও জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় পারে এই চ্যালেন্ঞ্জকে মোকাবেলা করতে।

শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

নদীর কূলে বাস, দুঃখ বারো মাস।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

নদীবহুল বাংলাদেশে বন্যা একটি ভয়াবহ ও নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় প্রতিবছরই বন্যা এদেশের মানুষের জীবনযাত্রা লন্ডভণ্ড করে দেয়। এর আঘাতে বেশি অনুভূত হয় আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে। বছরের পর বছর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ এ ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ, নষ্ট হচ্ছে মাঠের ফসল, ভেসে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে অগণিত তাজা প্রাণ। বর্তমানে এ বন্যা বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগ নিয়ন্ত্রণ হয়তো মানুষের হাতে নেই। কিন্তু বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা অনেকাংশে সম্ভব। পৃথিবীর অনেক দেশই এ সমস্যা সামাধান করেছে। বন্যার প্রতিকার দুইভাবে করা যায়। একটি হচ্ছে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অন্যটি অস্থায়ী বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা। স্থায়ী ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে: নদীবিশেষজ্ঞ দ্বারা পরিকল্পনা নিয়ে বাধ নির্মাণ করা, ভরাট নদীগুলো পুর্ণখনন, নদীর গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর গতি পরিবর্তন, নদীর ধারে কৃত্রিম জলাশয় নির্মাণ, স্লুইস গেট, রেগুলেটর ব্যারেজ নির্মাণ ইত্যাদি। অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছেঃ বন্যার পূর্বসতকর্তামূলক কর্মসূচি, বন্যা চলাকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ ও তাঁবুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর সে এলাকার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা, দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সহজে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা।

শিক্ষার্থী, পরিসংখ্যান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বন্যায় সহায়হীন মানুষদের ত্রাণ ও পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
নূর-ই-সালমা লামিয়া

প্রতিবছর দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হালকা -ভারী বর্ষণের ফলে বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় তলিয়ে যায় আবাদি জমির মাঠ, ঘরবাড়ি ও গৃহপালিত পশু-পাখি। এছাড়া সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গৃহহীন অসহায় মানুষের দুর্ভোগের যেন অন্ত নেই। খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া নিরাপদ পানি সংকট ও দেখা দেয়। করোনা মহামারির মধ্যে বন্যা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। একদিকে লকডাউন অন্যদিকে বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে অসহায় এ মানুষগুলো সামান্য রুটি -রুজি কীভাবে জুটবে সেই চিন্তায় নিমগ্ন। বন্যায় যথাযথ ত্রাণ সামগ্রী ও তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প ত্রাণ যেন পাহাড় সমান হতাশা। এছাড়া বন্যার ফলে অসহায় মানুষদের দ্রুত পুনর্বাসন করা জরুরি। প্রশাসনের সুনজর ভানবাসী এ মানুষগুলোকে রক্ষা করতে সহয়তা করবে। সেই সাথে তাদের পুনর্বাসন ও ত্রাণে যেন অনিয়ম, দুর্নীতি না হয় সেদিকে ও সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে।

শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা প্রয়োজন।
আব্দুল কাইয়ুম

কোভিড-১৯ এর কারণে ভেঙ্গে পড়েছে অর্থনৈতিক কাঠামো, কর্মসংস্থান হারিয়েছে অনেকেই। এমতাবস্থায় বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে করেছে ব্যাহত। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষজন। অতিবৃষ্টির কারণে ঠিকমতো ঘর থেকে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে দেশের হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ। বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যে কারণে তারা নানা ধরনের রোগ জীবাণুর আক্রমণে পড়েছে। বন্যার কারণে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল , হাওর এলাকা ও নীচু এলাকা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে । এমতাবস্থায় সরকারি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে হবে স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসতে হবে অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে। ত্রাণ ও প্রয়োজনী নিত্যপন্য সরবরাহ করত হবে। এর ফলে অসহায় মানুষজন অনেকটাই উপকৃত হবে। আর সরকারের পাশাপাশি নানা বেসরকারী সংস্থা ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে এই দূর্যোগের সময়ে। কেননা বন্যার কারণে একেবারে নিরুপায় হয়ে পড়েছে অসহায় মানুষজন। বন্যার মতো কঠিন সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সরকারের কার্যকারী পদক্ষেপের মাধ্যমেই উপকৃত হতে পারে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষজন।

শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

তৌহিদা আকতার
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
উপপ্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশকঃ ট্রাস্ট মিডিয়া হাউস © 2020-2023